kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

ওষুধে মশা কমলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ঘরের মশা

শম্পা বিশ্বাস   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওষুধে মশা কমলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ঘরের মশা

এডিস নিধনে সাত দিন ধরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পরিচালনা করছে চিরুনি অভিযান। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মশার লার্ভা নিধনে চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিদিন এসব অভিযানে বাসাবাড়ি এবং নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ার কারণে লাখ টাকা জরিমানাও করছে দুই সিটিই। তার পরও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গুতে। ঢাকার দুই সিটিই বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে বাসাবাড়ির ভেতরে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে কোনোভাবেই সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হাদী লেনের এক ভবনে বাস করেন রিফাত সুলতানা। সম্প্রতি তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দক্ষিণ সিটি তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে মেলে এডিসের লার্ভা। ফলে ওই ভবনের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মশার লার্ভা পাওয়ার অভিযোগে ভবন মালিকদের জরিমানা করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিনই দুই সিটির অভিযানে। গতকাল দক্ষিণ সিটির ১৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টার্স, জিগাতলা স্টাফ কোয়ার্টার্সসহ ৩৬টি নির্মাণাধীন ভবন এবং বাসাবাড়িকে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অন্যদিকে উত্তরের গতকালের অভিযানে মশার লার্ভা পাওয়ার কারণে জরিমানা আদায় হয়েছে দুই লাখ ৮২ হাজার টাকা।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। আমরা এখন আমাদের কন্ট্রোল রুম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক থেকে মশার লার্ভার বিষয়ে তথ্য পাচ্ছি। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা যদি কারো বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মশার লার্ভা পাই তাহলে তাদেরকে জরিমানা করছি।’

অন্যদিকে রাজধানীর গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোড এলাকায় উত্তর সিটি মশার ওষুধ ছিটিয়েছে সোমবার। এরপর ওই এলাকায় মশা কমেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বলাকার মোড়ের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঔষাদ ছিটাইলে মশা কম থাহে। কাইল (সোমবার) ছিটানোর পর থেইক্যা মশা কমছে।’ বলাকার মোড় থেকে একটু সামনে এগিয়ে হাতের বামে বাবলীর মোড়। সেখানে ভ্যানের ওপর বসে গল্প করছিলেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সপ্তাহে এক-দুই দিন এখানে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা মশার ওষুধ ছিটিয়ে যান। তখন মশা কমে। ওষুধ ছিটানোতে গ্যাপ পড়লে মশা বেড়ে যায়। যদিও সেই মশা বৃদ্ধির দায় এককভাবে করপোরেশনের ওপর চাপাতে নারাজ

বশির আহমেদ নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কাজ মশার ওষুধ ছিটানো। সেটা সঠিকভাবে পালন না করলে সেই দায় অবশ্যই করপোরেশনের ওপর বর্তায়। তবে মানুষের বাসার মধ্যে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে সেই দায় নাগরিকের। ফলে করপোরেশন এবং নাগরিক দুই পক্ষই যদি তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে তাহলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।’

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নগরবাসী বোতলে গাছ লাগায়, ফুলের টব কেনে। কিন্তু তার পানিটা নিয়মিত পরিষ্কার করে না। ঈদের ছুটিতে তারা সাত দিনের জন্য ঘর বন্ধ করে গ্রামে চলে যায়, তখন যে এসব টবে এডিস মশা জন্মায় তার দায় কার? তবে আমি এতটুকু বলব সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায় আছে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা মশক নিধনে কাজও করে যাচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সচেতনতা ছাড়া এটা একার পক্ষে করা অসম্ভব।’

এদিকে গতকাল সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬৪ জন। যার মধ্যে ঢাকার ২৪৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে এক হাজার ২৫ জন। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪৭ জন। এই নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৭২। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৪৪৬ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে দুই হাজার ৩৭০ জন।