kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

‘বসুন্ধরা গ্রুপ প্রমাণ করেছে তারা দেশ ও মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু’

জয়পুরহাটের আরো দুই উপজেলায় এক হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

আলমগীর চৌধুরী ও নাজমুল হুদা, জয়পুরহাট থেকে   

৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে




‘বসুন্ধরা গ্রুপ প্রমাণ করেছে তারা দেশ ও মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু’

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাড়ির গ্যারেজে কাজ করতেন আল আমিন। বৃদ্ধ বাবা আর স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই চলছিল তাঁর সংসার। করোনার এই দুঃসময়ে কাজ হারিয়েছেন। ফলে সংসারে শুরু হয় অভাব-অনটন। বাবার চিকিৎসা ব্যয় আর সংসার চালানো তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। চক্ষুলজ্জায় মানবেতর জীবনের কথা কাউকে বলতেও পারছিলেন না। তবে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা ঠিক তাঁকে খুঁজে বের করেন। আল আমিনের হাতে তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী। বড় অসহায় এই সময়ে এমন সহায়তা পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, ‘অনেক দিন ধইরা কোনো কামকাজ করবা পারছি না। বাজার করার টাকা-পয়সা নাই। শরমে কারো কাছে হাত পাততে পারি না। আজকে আপনারা হামার খোঁজ নিলেন! এতগুলা খাবার দিলেন! খুব উপকার হইলো। আপনাদের জন্য দোয়া করি। আপনারা সুস্থ থাকেন।’

পত্রিকার হকারি করেন আব্দুল জলিল। করোনা তাঁর উপার্জনেও ছোবল বসিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তা পেয়ে অশ্রুসিক্ত জলিল বলেন, ‘প্রাণ ভরে বসুন্ধরা গ্রুপকে দোয়া করি। আল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের ভালো করুক। ভালো রাখুক।’

গতকাল সোমবার জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলা ও পাঁচবিবি উপজেলায় আমিন ও জলিলের মতো কর্মহীন, পত্রিকার হকার, মোটর শ্রমিক, দরজি শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, ডেকোরেটর শ্রমিকসহ অসহায় এক হাজার পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এ সময় সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ এবং করোনা থেকে সুরক্ষায় তাঁদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে ৩০০, রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৩০০ এবং পাঁচবিবি স্টেডিয়ামে ৪০০ অসহায় পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা।

৩০ বছর ধরে একা জীবন পার করছেন আজিদা বেগম। দুর্ঘটনায় স্বামী ফিরোজ মাঝি মারা যান। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর সেও মারা যায়। সেই থেকে আজিদাকে দেখার আর কেউ নেই। আজিদা বেগমের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘খুব দুঃখ হামার। এই খাবারে হামার ম্যালা দিন চইল্যা যাবে। হামার অনেক উপকার করলু। তোমাকের নেকির পাল্লা ভারী হোক। জান্নাত দেক।’

শুভসংঘের সদস্যদের হাত থেকে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণের পর রূপ কুমার বলেন, ‘করোনায় হামি কামাই করবা পারি না। মা, দুই বাচ্চা আর স্ত্রী লইয়া কষ্টত আছি। এই চাইল-ডাইলে হামরা সাত দিন খাবার পারমু। তোমাকের জন্য ঈশ্বরের কাছেত দোয়া করি। ভালো করবেন তোমাকের।’

জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে। তিনি দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ (গতকাল) আমাদের জয়পুরহাট জেলায় দুই হাজার অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানাই এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করার জন্য। বসুন্ধরার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সবাইকে মাস্ক পরতে অনুরোধ করছি। কারণ আমাদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয়। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেন না।’

রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকাজে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বড় শিল্প গ্রুপ। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপ দেশজুড়ে যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে, এর জন্য গ্রুপটির চেয়ারম্যানকে আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি কালের কণ্ঠ শুভসংঘকেও ধন্যবাদ জানাই এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য। মহামারির এই ভয়াবহ বিপদের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ প্রমাণ করেছে, তারা দেশের এবং সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু।’

জয়পুরহাট সদরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে আরো উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পিপি, সাধারণ সম্পাদক খ ক মো. আব্দুর রহমান রনি, স্থানীয় সমাজসেবক নন্দলাল পার্শী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম লেবু, জয়পুরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, জেলা রোভার প্রতিনিধি সালেহর রহমান সজিবসহ জয়পুরহাট জেলা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবী নূর-ই-আলম হোসেন, মোস্তাকিম বিল্লাহ, তরিকুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, আবু তালহা সাঈদ, সানজিদ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, রাকিব হোসেন, কাউসার আহমেদ, ইশতিয়াক আহমেদ, মো. নাছিম, শিমুলসহ স্কাউটের সদস্যরা।

পাঁচবিবি স্টেডিয়ামে বসুন্ধরার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে যোগ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল শহিদ মুন্না বলেন, ‘মহামারি করোনার শুরু থেকেই বসুন্ধরা গ্রুপ মানুষের জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে দুই লাখ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর উচিত বসুন্ধরা গ্রুপের মতো সাধারণ মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা গ্রুপ দেশজুড়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর জন্য আমি বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বসুন্ধরা গ্রুপ আপনাদের যে খাবার দিয়েছে, এ খাবার দিয়ে আপনারা ১০ দিন খেতে পারবেন। অন্তত এই সময়টায় কেউ অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবেন না। সবাই মাস্ক পরবেন।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরমান হোসেন, পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক মণ্ডল, থানার ওসি পলাশ চন্দ্র দেব, কালের কণ্ঠ পাঁচবিবি উপজেলা প্রতিনিধি সুমন চৌধুরী, শুভসংঘের পাঁচবিবি উপজেলার উপদেষ্টা আব্দুল হালিম সাবু, আজাদ আলী ও জিহাদ মণ্ডল, সভাপতি তাইজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মণ্ডলসহ এ পি এম জাহিদুর রহমান, জীবন কৃষ্ণ সরকার, জয়নাল আবেদিন, তৌফিক হাসান, আরাফাত হোসেন, উল্লাস কুমার, জাহিদ হাসান, রুহুল আমিন, ফাতেমা আক্তার, আক্তার হোসেন, আল কারিয়া চৌধুরী, হিমেল হোসেন, রাব্বি হোসেন, রুমাইয়া আক্তার রিয়া, সাদিয়া আক্তার, রিয়া আক্তার, গোবিন্দ সরকার, মাহফুজুল হোসেন, হাসনাইন হোসেন, রাফিউল হোসেন ও গৌর মহান্ত।

এ দুই উপজেলার তিনটি স্থানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সব কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন ও উত্তরা ইউনিভার্সিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন রনি।

 



সাতদিনের সেরা