kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

সবিশেষ

প্লাস্টিকখেকো ফাঙ্গাস আর ব্যাকটেরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্লাস্টিকখেকো ফাঙ্গাস আর ব্যাকটেরিয়া

সবাই জানেন, প্লাস্টিকের বর্জ্য সহজে পচে-গলে মাটিতে মিশে যায় না, এ জন্য বহু সময় লাগে। ঠিক সে কারণেই প্লাস্টিকের বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এমন হয় যে এক ধরনের ফাঙ্গাস প্রয়োগ করা হলো, যা এই প্লাস্টিককে আক্ষরিক অর্থেই ‘খেয়ে ফেলতে’ পারে, তাহলে হয়তো প্লাস্টিক বর্জ্য প্রকৃতিতে মিশে যাওয়ার কাজটা পানির মতো সহজ হয়ে যাবে।

একজন বিজ্ঞানী আকস্মিকভাবে ঠিক এটিই আবিষ্কার করে ফেলেছেন। অন্য এক বিষয়ে গবেষণার কাজ করতে গিয়ে দৈবক্রমে সামান্থা জেংকিনস নামের এই গবেষক এমন একটি ফাঙ্গাস বা ছত্রাক আবিষ্কার করেছেন, যা প্লাস্টিকখেকো।

এক ধরনের প্লাস্টিক আছে যাকে বলে পিইটি (পলিইথাইলিন টেরেপথালেট), যা ব্যবহার করা হয় নানা রকমের পানীয়র বোতল তৈরির জন্য। এগুলো সহজে নষ্ট হয় না। সামান্থা জেংকিনস ঠিক করলেন, এই পিইটিকে ফাঙ্গাস দিয়ে ধ্বংস করা যায় কি না, সেটাই পরীক্ষা করে দেখবেন। তাঁর কথায়, ‘ধরুন, একটি জারভর্তি আছে শস্যকণা; তার ওপরে এক দলা ফাঙ্গাস গজিয়েছে। ব্যাপারটা দেখতে মোটেও উত্তেজনাকর বা আকর্ষণীয় কিছু ছিল না। কিন্তু যে-ই জারটা খোলা হলো, দেখা গেল দারুণ এক ব্যাপার ঘটে গেছে।’

জেংকিনস দেখলেন, জারটা বায়ুরোধী করার জন্য যে প্লাস্টিকের স্পঞ্জ দেওয়া ছিল, ফাঙ্গাসগুলো সেটাতে ক্ষয় ধরিয়েছে এবং অন্য যেকোনো খাবারের মতোই সেটাকে হজম করে ফেলেছে।

প্লাস্টিক বিনাশ নিয়ে আরো কিছু বিজ্ঞানী কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ল্যাবরেটরিতে তৈরি ই-কোলাই নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করেছেন, যা টেরেপথ্যালিক এসিডকে ভাঙছে। এই টেরেপথ্যালিক এসিড হচ্ছে পিইটি থেকে পাওয়া একটি অণু।

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেসের ড. জোয়ানা স্যাডলার বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। প্রক্রিয়াটিকে আরো কার্যকর ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করার জন্য আরো কাজ করতে হবে।’

অন্যদিকে জার্মানির লাইপজিগে হেলমহোল্টৎস সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের একটি দল আরেকটি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটিয়েছে। এই দলটি ‘সিউডোমোনাস এসপি টিডিএ-ওয়ান’ নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়াকে পলিইউরিথেন ভাঙার জন্য ব্যবহার করছে। স্থানীয় একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় এই ব্যাকটেরিয়াটি মিলেছিল। দেখা যাচ্ছে, এই ব্যাকটেরিয়া প্লাস্টিকের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে আর বাকি অংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে বাতাসে মিশে যায়। সিউডোমোনাস তার এনজাইম ব্যবহার করে পলিইউরিথেনকে ভেঙে ফেলে। এ ছাড়া অন্য আরো কিছু ক্ষুদ্র অণুজীব আছে, যারা প্লাস্টিক খায়। লাইপজিগের গবেষকদলটি এই ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বিশ্লেষণ করেছে, যাতে এসব এনজাইমের জেনেটিক গঠন বের করা যায়। এখন এসব পদ্ধতি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার চেষ্টা চলছে। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা