kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

আবার চালকের আসনে বসতে চান দিয়ার বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার চালকের আসনে বসতে চান দিয়ার বাবা

সন্তান হারানোর বেদনায় সড়কে বসে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন মো. জাহাঙ্গীর ফকির। সেদিন মেয়ের দেহ থেকে গড়িয়ে যাওয়া রক্ত আর তাঁর চোখের পানি একাকার হয়ে যায়। সড়কে সেই রক্তের দাগ এখন নেই। কিন্তু বাবার চোখের পানি শুকায়নি।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়ার মৃত্যুর পর তার বাবা বাসচালক জাহাঙ্গীর এখন পর্যন্ত চালকের আসনে বসেননি। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, আর কোনো  দিন বাস চালাবেন না। সে কথা আজও রেখেছেন। সন্তানের অসময়ে চলে যাওয়ার ব্যথাও বুকে বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণাও তো থামাতে হয়। করোনায় কর্মহীন জাহাঙ্গীর আবারও চালকের আসনে বসতে চাচ্ছেন। তবে বাস নয়, পিকআপ ভ্যান চালাতে চান তিনি। 

জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে দিয়ার সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন একই কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব। সে দিনের ওই সড়ক দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে।

দিয়াকে নিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কালের কণ্ঠ’র কথা হয়। দিয়ার বাবা বলেন, ‘মেয়েটা চলে যাওয়ার পর আর বাস চালাতে পারি নাই। মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে একটা দোকান দিছিলাম। সরকারি জায়গায় হওয়ায় অন্য দোকানের সঙ্গে ওইটাও ভাঙা পড়েছে। করোনার মধ্যে আর কোথাও দোকান দেওয়া হয় নাই।’ সংসার চলে কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের ২০ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রাখা আছে। সেখান থেকে প্রতি তিন মাস পর পর প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ আসে। তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলছে। এর বাইরেও শাজাহান খান (সাবেক মন্ত্রী) পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।’

করোনা মহামারির কারণে প্রায় এক বছর ধরে পুরোপুরি কর্মহীন জাহাঙ্গীর ফকির। গাড়ি চালানোই তাঁর পেশা ছিল। তাই আবারও চালকের আসনে বসার চেষ্টা করছেন তিনি। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘একটা পুরনো পিকআপ ভ্যান কেনার চেষ্টা করছি। বাস আর চালাতে চাই না। অনেক পরিবহন নেতাই তখন নানা আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁদের এখন আর খুঁজে পাই না। এক নেতা আয়ের একটা উপায় করে দেবেন বলে আমার কাছ থেকে তখন ছয় লাখ টাকা নিছিলেন, তিনি এখন ফোনই ধরেন না। চেষ্টা করছি কিছু টাকা জোগাড় করার, তাইলে পিকআপ চালাইয়া সংসারের হাল ধরতে পারব।’



সাতদিনের সেরা