kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

দেশে বাঘের সংখ্যা ১১৪, বিশ্বে ৩৯০০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে বাঘের সংখ্যা ১১৪, বিশ্বে ৩৯০০

বন বিভাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০৪ সালে আমাদের দেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০। ২০১৮ সালের সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪। ২০১৫ সালে ছিল ১০৬টি। অর্থাৎ শেষ গণনায় আটটি বাঘ বেড়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান, নেপাল ও রাশিয়ায় বাঘ রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য মতে, বিশ্বে বাঘের সংখ্যা তিন হাজার ৯০০। বাঘ বাঁচাতে বাঘসমৃদ্ধ দেশগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ১৩ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিবছরের ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ‘বাঘ বাঁচায় সুন্দরবন, সুন্দরবন বাঁচায় লক্ষ জীবন’ প্রতিপাদ্যে আজ বৃহস্পতিবার দেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এত দিন দেশে সনাতন পদ্ধতিতে বাঘের পায়ের ছাপ গুনে বাঘ গণনা করা হতো। কিন্তু একই বাঘের পায়ের ছাপ একাধিক জায়গায় থাকায় প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যেত না। তবে কয়েক বছর আগে উন্নত প্রযুক্তি ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’-এর মাধ্যমে বাঘ গণনা করা হয়। এতে বাঘের সংখ্যা ৪৪০ থেকে কমে ১০৬টিতে এসে দাঁড়ায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানুষের হাতের রেখা যেমন একজনের সঙ্গে আরেকজনের মেলে না, তেমনি বাঘের ডোরাকাটাও একটির সঙ্গে আরেকটির মেলে না। তাই ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে একটি বাঘ একবার গণনা হলে সেটি আর দ্বিতীয়বার গণনার সুযোগ নেই।

ফলে আগে বাঘের সংখ্যা অনেকটাই বেশি হিসাবে আসত, এখন প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রকৃত অর্থেই দেশে বাঘের সংখ্যা কমেছে। গত ২০ বছরে প্রায় ৩৮টি বাঘ হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাঘ কমার নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বাঘের বসবাস উপযোগী নিরাপদ বনাঞ্চল ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, চোরা শিকারিদের কারবার, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব, বাঘ ও মানুষের দ্বন্দ্ব, বনের ভেতরে অবাধে নৌ চলাচল, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাঘের বিভিন্ন ধরনের রোগ, পর্যটকদের আনাগোনা, বাঘ শিকারিদের শাস্তির অভাব ইত্যাদি।

বাঘ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে সুন্দরবনের বাঘ স্থান পরিবর্তন করে থাকে। বাঘ নিঃশব্দ এলাকা পছন্দ করে। এদের শিকার হিসেবে বনে যে হরিণ বা শূকর দরকার, তা যথেষ্ট নয়। মিষ্টি পানি আর শিকারের সন্ধানে বাঘ নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এলে হত্যার শিকার হয়।

সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বন, যা ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। মোট আয়তনের ৬০ ভাগ বাংলাদেশে। অথচ ২০১৬ সালে ভারতের সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৮১টি, তা বেড়ে ২০১৭ সালে হয়েছে ৮৭টি। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালের জরিপে ভারতের সুন্দরবনে বাঘ ৯৬টি। ভারতের সঙ্গে নেপাল, রাশিয়া ও ভুটানেও বাঘ বাড়ছে।

ভারতে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানা যায়, তারা সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বনের অভ্যন্তরে বসবাসকারীদের বনের বাইরে নিয়ে পুনর্বাসন করেছে। বন ঘেঁষে অবস্থিত মানুষকে আরো দূরে সরিয়ে নিয়েছে। ফলে বাঘ আর মানুষের দ্বন্দ্ব প্রায় নেই বললেই চলে।

আমাদের দেশের সুন্দরবনেও ‘বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে সুন্দরবনের কম বাঘসম্পন্ন এলাকায় বাঘ স্থানান্তর, ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে বাঘ জরিপ, বাঘের প্রধান খাবার হরিণ এবং বন্য শূকর জরিপ, বাঘের আপেক্ষিক ঘনত্ব নির্ধারণ, সুন্দরবনের লোকালয়সংলগ্ন এলাকায় নাইলনের রশির বেষ্টনী তৈরি, ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পরিবীক্ষণ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইত্যাদি নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো কালের কণ্ঠকে বলেন, “সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে বাঘ সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। বাঘ বাঁচাতে ও বাড়াতে এর বাসস্থান, খাবার ও বাইরের শিকারিদের কবল থেকে মুক্ত করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। বাঘ এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ ও বংশবিস্তারের লক্ষ্যে সুন্দরবনের ৫২ শতাংশ এলাকাকে রক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে জিপিআরএসের সাহায্যে নিয়মিত স্মার্ট প্যাট্রলিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মানুষ-বাঘ দ্বন্দ্ব নিরসনে সুন্দরবনের আশপাশের গ্রামে ৪৯টি ‘ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। বাঘের আক্রমণে নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।”



সাতদিনের সেরা