kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

হাটহাজারীতে করোনা ভয়ংকর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে





হাটহাজারীতে করোনা ভয়ংকর

চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬ থানা ও জেলার ১৪ উপজেলার মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে হাটহাজারীতে। জেলার মধ্যেও সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত এই উপজেলায়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে ‘লকডাউন’, ‘কঠোর লকডাউন’ সত্ত্বেও কোনো কিছুতেই নগরের উপকণ্ঠে থাকা এই জনপদে করোনার অস্বাভাবিক বিস্তার ও মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। এখানে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে করোনা পরিস্থিতি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে নগরের হালিশহর এলাকায় ছিল চট্টগ্রামে (নগর ও জেলা) করোনায় সর্বোচ্চসংখ্যক প্রাণহানি। গত ১৯ জুলাই পর্যন্ত নগরের ৫১টি স্পটের মধ্যে হালিশহরে মৃত্যু ছিল ৭১ জনের। ওই দিন পর্যন্ত জেলার ১৪ উপজেলার মধ্যে হাটহাজারীতে সর্বোচ্চ ৬৮ জনের মৃত্যু হয়। দিনে দিনে এখানে মৃত্যু বেড়ে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭৭ জনে উঠে গেছে। অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যায় দীর্ঘদিন প্রথম সারিতে থাকা হালিশহরে এখন মোট মৃত্যু ৭৬ জনের। নগরের অন্য ৫০টি স্পটের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে কোতোয়ালি থানায়। এরপর তৃতীয় স্থানে রয়েছে চান্দগাঁও। এখানে মোট ৪০ জন  করোনা সংক্রমণে মারা গেছে।

চট্টগ্রামে গতকাল পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া মোট ৯১৫ জনের মধ্যে নগরে ৫৫৪ ও জেলায় ৩৬১ জন। নগরে মোট মৃত্যুর মধ্যে হালিশহরে ১৩.৭২, কোতোয়ালিতে ৯.৩৯ ও চান্দগাঁওয়ে ৭.২২ শতাংশ। নগরের থানা ও বিভিন্ন স্পটকে পেছনে ফেলে জেলার হাটহাজারীতে এখন সর্বোচ্চ মৃত্যু। জেলার মোট মৃত্যুর (৩৬১) মধ্যে সর্বোচ্চ হাটহাজারী উপজেলায় (৭৭ জন) ২১.৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সীতাকুণ্ডে (৪৮ জন) ১৩.৩ ও তৃতীয় স্থানে সন্দ্বীপে (আটজন) ২.২৩ শতাংশ।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৪ উপজেলায় গতকাল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৯৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত হাটহাজারীতে তিন হাজার ৮৪৪ জন। এটা জেলায় মোট শনাক্তের ২০.০২ শতাংশ। শনাক্তে এর পরই রাউজানে (দুই হাজার ২৬৮ জন) ১১.৮১ শতাংশ এবং সন্দ্বীপে (৪৫৮ জন) ২.৩৯ শতাংশ। অন্য ১১ উপজেলায় করোনা শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামে এখন করোনার ‘হটস্পট’ হাটহাজারী উপজেলা। এখানে অস্বাভাবিকভাবে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অনেকে বলছেন, হাটহাজারীতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানছে না বেশির ভাগ মানুষ। হাট-বাজার থেকে শুরু করে যাতায়াতে তারা মাস্ক পরছে না। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে নগরেও। কারণ হাটহাজারী থেকে অনেক মানুষ প্রতিদিন নগরে যাতায়াত করছে।

সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, শহরে যেভাবে সংক্রমণ বেড়েছে, তেমনি শহরের পাশের উপজেলা হাটহাজারীতেও সংক্রমণ বেড়েছে। সংক্রমণ বাড়ার কারণে সেখানে মৃত্যুও বেড়েছে। নগরের কাছে হওয়ায় পাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার অনেক মানুষ হাটহাজারীতে বসবাস করে। ঘনবসতির কারণেও সংক্রমণ বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মানলে সংক্রমণ আরো বাড়বে। সবাইকে বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে। এর বিকল্প নেই।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ইমতিয়াজ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই উপজেলা ঘিরে দুই পার্বত্য জেলা ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজানসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের যাতায়াত। অর্ধেক মানুষ প্রতিদিন উপজেলা থেকে নগরে আসা-যাওয়া করে থাকে। ৮০ শতাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের প্রতি মানুষের যেন অনীহা। তাদের বেপরোয়া চলাচলের কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে এখন ১৮ জন ভর্তি রয়েছে। সবাই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।’

গত ২৩ জুলাই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক তথ্যে দেখা যায়, ওই দিন পর্যন্ত হাটহাজারীতে নমুনা পরীক্ষা হয় আট হাজার ৩৯৪টি। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৬৯৮ জনের। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ৪৪.০৬ শতাংশ।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় মোট করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৬২ হাজার ৭৫২টি। পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ১৯৮টি নমুনা। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার জেলায় ১.৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে হাটহাজারীতে গতকাল পর্যন্ত মোট আক্রান্ত তিন হাজার ৮৪৪ জন। মোট মৃত্যু ৭৭ জনের। শনাক্ত অনুপাতে এই উপজেলায় মৃত্যুহার ২ শতাংশ।

এ ছাড়া গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ২৫৮টি। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৭ হাজার ৫২১ জনের। পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ১৪.০৪ শতাংশ। শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার (মোট মৃত্যু ৯১৫) ১.১৮ শতাংশ। আর জেলায় পরীক্ষা অনুপাতে এখন শনাক্তের হার ৩০.৫৯ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা