kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

চাপেই স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল রোমানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাপেই স্বপ্নযাত্রা থেমে গেল রোমানের

শঙ্কার টাইফুন সামলে তিনি দুর্দান্ত খেলে টম হলকে উড়িয়ে দিয়ে চমৎকার শুরু করেও দ্বিতীয় রাউন্ডে মাথা নোয়ালেন চাপের কাছে। কানাডার ক্রিসপিন ডুয়েনাসের বিপক্ষে শেষ তীরে ৯ মারলেও ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে ৮ মেরে রোমান সানা থামিয়ে দিলেন তাঁর অলিম্পিকের স্বপ্নযাত্রা! নিজের হাতেই যেন সম্ভাবনার ইতি টেনে দিয়েছেন। তাঁর কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখও মনে করছেন এ রকম, ‘কানাডার আর্চার দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন রোমানের সামনে, দুর্ভাগ্যবশত সে প্রবেশ করতে পারেনি।’

অথচ তাঁকে ঘিরেই ছিল লাল-সবুজের সব স্বপ্ন-সম্ভাবনা। পুরো দল ছয় অ্যাথলেটের হলেও একমাত্র তাঁর হাতেই ছিল জাদুর কাঠি। অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার ম্যাজিক। তোলপাড় করে দেওয়ার ক্ষমতা। বছর দুয়েক আগেও সেটা করে দেখিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসে। তীরের নিখুঁত নিশানায় সেরা আর্চারদের উড়িয়ে দিয়ে আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে রোমান সোনা নিজের যোগ্যতায় গেছেন টোকিও অলিম্পিকে। ওখানে শুরুটাও ভালো হয়েছিল। র্যাংকিং রাউন্ডে সপ্তদশ হয়ে দেশসেরা তারকা ৭-৩ সেট পয়েন্টে ইংলিশ টম হলকে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রথম রাউন্ডে। অমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি এই ম্যাচে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা ক্রিসপিন ডুয়েনাসের বিপক্ষে ফেভারিট ধরা হয়েছিল রোমানকে। কিন্তু চাপটা একটু বেশি নিয়েই কিনা প্রি-কোয়ার্টারের খোলা দুয়ারটি বন্ধ করে দিলেন ৬-৪ সেট পয়েন্টে হেরে। এরপর তাঁর কণ্ঠেও সুযোগ হারানোর হতাশা, ‘অবশ্যই আমি কিছুটা হতাশ। কারণ ১০ মারলে এই ম্যাচটি জিততে পারতাম। খুব ভালো একটা সুযোগ পেয়েছিলাম।’

কানাডার এই আর্চারের বিপক্ষে তিনি চমৎকার শুরু করেছিলেন প্রথম সেট ২৬-২৫ পয়েন্টে জিতে। পরের দুই সেটে আবার টানা হারেন ২৮-২৫ ও ২৯-২৭ পয়েন্টে। চতুর্থ সেট ২৭-২৬ পয়েন্ট জিতে রোমান সমতা ফেরান ম্যাচে। এবার ম্যাচের নিষ্পত্তি হবে পঞ্চম সেটে। প্রথম তীরে তিনি ৯ পয়েন্ট মেরে এগিয়ে যান ২ পয়েন্টে। দ্বিতীয় তীরে ডুয়েনাসের পারফেক্ট ১০-এর বিপরীতে তাঁর ৮ পয়েন্ট। সুতরাং দুই তীরের খেলা শেষে পয়েন্টের সমতা, নিষ্পত্তি শেষ তীরে। প্রতিপক্ষের ৯-এর বিপরীতে ১০ মারলেই জেতেন রোমান। ৯ মারলেও ম্যাচ টাই হয়। সেখানে ৮ মেরেই তিনি বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন। এর পরই তাঁর ১০-এর আক্ষেপের জন্ম।

আসলে ‘পারফেক্ট টেন’ চাইলেই যে মারা যায়, এমন নয়। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে তিনি ছয়বার ‘পারফেক্ট টেন’ মেরেছেন, আর পরের ম্যাচে সেটা নেমে আসে একে! মাত্র একটি পারফেক্ট টেন! এখানেই স্পষ্ট, প্রথম ম্যাচে তিনি ছিলেন ভীষণ নির্ভার। পরে দ্বিতীয় ম্যাচে চাপটা বড় বেশিই নিয়ে ফেলেছিলেন রোমান সানা। তাঁর জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের বিশ্লেষণ হলো, ‘ম্যাচে তার শতভাগ মনঃসংযোগ ছিল। মনে হয়েছে, শেষ তীরে আক্রমণাত্মক মেজাজটা তার ছিল না, একটু দ্বিধা কাজ করেছিল। খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে তীরটা ছুড়তে পারেনি। এ রকম পরিস্থিতিতে কিভাবে চাপ সামলে নিজেকে ঠিক রাখা যায়, সেটাই হলো টপ লেভেলের চ্যালেঞ্জ।’

খেলাটার ধরনই হলো এমন। ফুটবল, বক্সিং কিংবা কুস্তির মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরাসরি শারীরিক লড়াই নয়। আর্চারিতে প্রতিপক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। একজন আরেকজনের খেলা দেখবে, পয়েন্ট দেখবে, কিন্তু সুস্থির থাকতে হবে। সেই দেখে যদি প্রতিপক্ষ চাপে নুইয়ে পড়ে, নিজের খেলা গুলিয়ে ফেলে, তাহলেই সব শেষ। এমন মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে রোমানের স্বপ্নযাত্রা থেমে গেছে। তবে হাল ছাড়ছেন না, ‘২০২৪ অলিম্পিকেও চেষ্টা করব, তবে ২০২৮-এ গিয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতার লক্ষ্য আমার।’



সাতদিনের সেরা