kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

কভিডের কম পরীক্ষা

গোপন সংক্রমণ ও উপসর্গে মৃত্যু বাড়ছে

তৌফিক মারুফ   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গোপন সংক্রমণ ও উপসর্গে মৃত্যু বাড়ছে

দেশে করোনা সংক্রমণে যেমন ঊর্ধ্বগতি, দেরিতে হলেও গতি বাড়ছে টিকা দেওয়ায়ও। সেই অনুপাতে পিছিয়ে কভিড-১৯ শনাক্তকরণ। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়েছে পরীক্ষা। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের হতাশাও কাটছে না। পরীক্ষা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যত দ্রুত বেশি মানুষের পরীক্ষা করা যাবে, তত সংক্রমণের সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে। আর রোগী শনাক্ত করা গেলে নিয়ন্ত্রণকাজ আরো সহজ হবে।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও পরীক্ষা না করানোয় বুঝতে পারে না। বাড়িতে থেকে অবস্থা যখন জটিল হয় তখন হাসপাতালে ছোটে, কিন্তু তখন আর কিছু করার থাকে না। এর ফলে মৃত্যু বাড়ছে। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়েও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়িতেও মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে করোনায় দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশের অবস্থান ১০-১১ নম্বরে থাকছে; কিন্তু পরীক্ষার অবস্থানে বাংলাদেশ ৩৩তম স্থানে। আগের তুলনায় কয়েক দিন পরীক্ষা বেশি হলেও অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেনি। গত রবিবার ৫০ হাজারের বেশি পরীক্ষা হলেও জনসংখ্যার তুলনায় এখনো বাংলাদেশের অবস্থান নিচের সারিতে। এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হলেও এখনো তা প্রতি লাখে মাত্র ১৬৭ জন। অন্যান্য দেশে এই সংখ্যা অনেক বেশি।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দেশে বর্তমানে মোট ৬৩৯টি ল্যাবে কভিড টেস্ট হয়। সব কেন্দ্রে মানুষে ঠাসাঠাসি, বিশৃঙ্খল এক অবস্থা। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর পরীক্ষাকেন্দ্রে অন্য রোগী, কভিড রোগী, টিকা দিতে আসা মানুষ, পরীক্ষার জন্য আসা মানুষে একাকার হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, ৬৩৯টি কেন্দ্রে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে, ৫ শতাংশ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পদ্ধতি ও ১ শতাংশ জিনএক্সপার্ট পদ্ধতিতে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ২০১টি নমুনা পরীক্ষা আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০ লাখ তিন হাজার ৫১০টি নমুনা পরীক্ষা। এসব নমুনা পরীক্ষায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ জন। দৈনিক শনাক্তের হার ২৮.৪৪ শতাংশ, মোট শনাক্তের হার ১৫.৮১ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. আবু জামিল ফয়সাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তো জানি, প্রতিদিন যা শনাক্ত হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি আক্রান্ত। পরীক্ষার বাইরে থাকায় ওই মানুষগুলোর অনেকে উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। দিনে অন্তত এক লাখ নমুনা নেওয়া গেলে শনাক্ত আরো বেশি হবে। এভাবে গোপন রোগীরা বেরিয়ে আসবে। এটি চিকিৎসা ও সংক্রমণ রোধে সহায়ক হবে।’

তিনি বলেন, ‘শনাক্ত হওয়া মানুষগুলো অন্তত নিজেরা জানতে পারবে যে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তখন নিজ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করবে। আর যাদের হাসপাতালে যাওয়ার মতো অবস্থা তারা আগেভাগে হাসপাতালে যেতে পারবে।’

এই বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, ‘এখনো সময় আছে; যেভাবে গ্রামে গ্রামে টিকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; সেভাবেই গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে করোনা টেস্ট করা যায়। ইউনিয়ন বা কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত এগুলো সম্প্রসারণ করা যায়। যথাসময়ে পরীক্ষা হলে চিকিৎসার সুযোগে মৃত্যুও অনেক কমবে। টিকা দেওয়াও সহজ হবে। যারা পজিটিভ হবে তারা পরে টিকা নেবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরীক্ষার সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলেই এখন দিনে ৫২ হাজার পরীক্ষা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তা আরো বাড়ানো হবে। এখন উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা হচ্ছে। এর পরিধি আরো বাড়াতে আমরা মাঠ পর্যায়ে চিঠি দিয়েছি।’



সাতদিনের সেরা