kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

বালুখালীতে পাহাড়ধস ও ঢলে ৬ রোহিঙ্গার মৃত্যু

পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ও দেয়ালচাপায় আরো ২ প্রাণহানি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বালুখালীতে পাহাড়ধস ও ঢলে ৬ রোহিঙ্গার মৃত্যু

পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শিশুকে নিয়ে শিবিরের এক সদস্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ায় ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পরিবারের পাঁচ সদস্যের প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া ঢলের পানিতে ডুবে মারা গেছে এক রোহিঙ্গা। ধসে পড়েছে অর্ধশতাধিক বস্তিও। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১০ ও ৮ নম্বর শিবিরের জি-ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী ও তিন শিশু আছে। এ ঘটনায় আহত পাঁচজনকে শিবির এলাকার কেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফে ঘরের দেয়ালচাপায় একজন এবং ঘুনধুমে পানিতে ডুবে মারা গেছে এক শিশু।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের টানা ভারি বর্ষণে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বস্তি এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শুধু বালুখালী শিবিরেই শতাধিক বস্তি টানা বর্ষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে অর্ধশতাধিক বস্তি ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন জানান, দুই দিন ধরে টানা বর্ষণ চলছে। গতকাল সকালে ভারি বর্ষণের ফলে উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের জি-ব্লকে পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো শাহ আলমের স্ত্রী নুরবাহার (৫০) ও ছেলে শফি আলম (৮), একই ব্লকের মোহাম্মদ ইউসুফের স্ত্রী দিল বাহার (২৪) এবং তাঁর দুই শিশুসন্তান আবদুর রহমান (৩) ও আয়েশা (২)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো পাঁচজন। 

রোহিঙ্গা শিবিরটিতে কর্মরত সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক রোহিঙ্গা শিশু মারা গেছে। তার নামপরিচয় তাত্ক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, গত দুই দিনের ভারি বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা শিবির এলাকার পাহাড়গুলোর মাটি নরম হয়ে ধসে পড়তে শুরু করে। ভারি বর্ষণে রোহিঙ্গা শিবিরের আরো বহুসংখ্যক বস্তি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসতির রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুই দিনের বর্ষণে ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার বাসিন্দা।

এদিকে ঘুনধুম সীমান্তের বড়ুয়াপাড়ায় পানিতে ডুবে সকালে মারা গেছে এক শিশু। আর টেকনাফ উপজেলার উলুবনিয়া রাস্তার মাথা মনির ঘোনা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রকিম আলী ঘরের দেয়ালচাপায় মারা গেছেন।

 

 



সাতদিনের সেরা