kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

বাংলাদেশকে অ্যামনেস্টি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

অনলাইনে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল বা আইনটি আন্তর্জাতিক মান ও মানবাধিকার আইনের অনুসরণে সংশোধনের কথাও বলেছে সংস্থাটি। গতকাল সোমবার ভোরে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক ব্রিফিংয়ে এই আহ্বান জানানো হয়।

অ্যামনেস্টি তার ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করেছে, ভিন্নমত দমনের জন্য এ আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। ‘নো স্পেস ফর ডিসেন্ট’ (ভিন্নমতের স্থান নেই) শীর্ষক ওই ব্রিফিংয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সমালোচনা করায় গুম, বিনা বিচারে আটক ও নির্যাতনের মতো বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চলতি জুলাই মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় অন্ততপক্ষে ৪৩৩ জন কারাবন্দি আছেন। তাঁদের বেশির ভাগকেই অনলাইনে ভুল এবং আক্রমণাত্মক তথ্য প্রকাশের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। অ্যামনেস্টির অভিযোগ, যাঁদেরকে আইনটির লক্ষ্য বানানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, গায়ক, অ্যাক্টিভিস্ট, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী—এমনকি লেখাপড়া না জানা এক কৃষকও রয়েছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় লেখক মুশতাক আহমেদ বিচারবিহীনভাবে ১০ মাস ধরে কারাগারে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন কারাবন্দি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কর্তৃপক্ষ যে ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা থেকেই স্পষ্ট যে বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো কিছুর প্রতিবাদ করা বা ভিন্নমত পোষণ কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের মত প্রকাশে এমন অন্যায্য বিধি-নিষেধ আরোপ বাংলাদেশি সমাজের সর্বস্তরে ভয়ের বার্তা ছড়িয়েছে এবং স্বাধীন মিডিয়া ও সুধীসমাজের কাজের পরিসরকে সংকুচিত করেছে। শুধু নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার চর্চার কারণে যেসব মানুষকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বন্দি করেছে, তাদেরকে অবশ্যই মুক্তি দিতে হবে।

সাদ হাম্মাদি বলেন, ‘কারাগারে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করা তো দূরের কথা, মুশতাক আহমেদের এক মিনিটও কারাগারে থাকার কথা ছিল না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিভিন্ন ধারায় এমন অনেক কাজকে অপরাধ বানানো হয়েছে, যেগুলো আদৌ কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত নয়। ভিন্নমত দমনের জন্য আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের এই অনুশীলন থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ‘নো স্পেস ফর ডিসেন্ট’ শীর্ষক ওয়েবিনার আয়োজন করে। এতে মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যামনেস্টি মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালমার্ড ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।

 



সাতদিনের সেরা