kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত

কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে ভোটের আয়োজন নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত

আগামীকাল ২৮ জুলাই জাতীয় সংসদের সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। হাইকোর্ট ওই ভোটগ্রহণের ওপর আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ঘোষিত কঠোর বিধি-নিষেধ। তাই আপাতত ওই দিন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হলো। হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের তথ্য এরই মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার আদালতের আদেশ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সারা দেশে চলাফেরার ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করার পরও ইসি সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করেছে। সেখানে ইসি এ ধরনের সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নেয় কিভাবে? বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনে গতকাল সোমবার ভোটগ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের ছয়জন আইনজীবী এবং স্থানীয় সাত ভোটারের করা ওই রিট আবেদনে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

ওই উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখতে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) রবিবার আইনি নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। ওই পাঁচ আইনজীবী হলেন মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, আল-রেজা মো. আমির, মো. জোবায়দুর রহমান, মো. জহিরুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর ওই পাঁচ আইনজীবী ও সিলেটের আরেক আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার সালেহ আহমেদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার শিপন আহমেদসহ সাতজন ভোটগ্রহণ স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে গতকাল সকালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

শুনানিতে শিশির মনির বলেন, আজ সোমবারের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মারা গেছে ৬১৭ জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ হাজারেরও বেশি। এমনকি ওই এলাকার নির্বাচনী কর্মকর্তাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি বলেন, যে কারণে ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি, সেই কারণ এখনো দেশে বিদ্যমান। ভোট বড় নয়, এখানে মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িত। ভোট দিতে গিয়ে যদি কেউ আক্রান্ত হয়? তিনি আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ইসির হাতে এখনো ৪২ দিন সময় আছে। সরকার যেভাবে টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছে তাতে এই সময়ে দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে বিশ্বাস করি। তাই মানুষের জীবনের প্রশ্নে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

এ সময় আদালত বলেন, কোনো প্রার্থী তো আদালতে আসেননি। জবাবে আইনজীবী বলেন, প্রার্থীরা আসেননি এটা ঠিক। কিন্তু এর কারণ হলো যে প্রার্থী নির্বাচন স্থগিতের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হলে তাঁর নির্বাচনী অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে, এই ভয়ে তাঁরা কেউ আসছেন না।

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য জানতে চান আদালত। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ফোনে ইসির সঙ্গে কথা বলে পরে আদালতকে জানান, ‘ইসি নির্বাচন করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তা ছাড়া কোনো প্রার্থীই নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেননি। তাই কোনো আদেশ না দেওয়ার নিবেদন করছি।’

আদালত বলেন, সরকার কঠোর বিধি-নিষেধ দিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আদালত খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে ইসি সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নেয় কিভাবে? আদালত বলেন, গত ১৫ দিনে যেখানে প্রতিদিন সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের বেশি, মৃত্যুর হারও বেশি। সেখানে ইসির এই সিদ্ধান্ত সরকারের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? সারা দেশে যা পরিস্থিতি তাতে এই সময়ে নির্বাচন করা কতটা যুক্তিযুক্ত? উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন।

 



সাতদিনের সেরা