kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা

‘অনিয়ম ভুল রিপোর্ট’ বন্ধ হলো করোনা পরীক্ষার ১১ কেন্দ্র

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘অনিয়ম ভুল রিপোর্ট’ বন্ধ হলো করোনা পরীক্ষার ১১ কেন্দ্র

করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (আরএনপিপি) এলাকায় নমুনা সংগ্রহ করা ১১টি মেডিক্যালের ১১টি ক্যাম্প বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বন্ধ হওয়া ক্যাম্পগুলোর মধ্যে আছে ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল ঢাকা, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড ঢাকা, প্রাভা হেলথ বাংলাদেশ লিমিটেড, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঢাকা, ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল গাজীপুর, টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ বগুড়া, ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড ঢাকা, প্রাইম ডায়াগনস্টিক লিমিটেড ঢাকা, মডার্ন হসপিটাল কুমিল্লা ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল ঢাকা।

জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে (আরএনপিপি) কর্মরত দেশি ও বিদেশি প্রায় ২৮ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তার প্রতি মাসে করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে দেশের ১১টি মেডিক্যাল কলেজ আরএনপিপি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এই ১১টি মেডিক্যালের কোনোটিরই আরএনপিপি এলাকায় নমুনা পরীক্ষা করার ল্যাব (পরীক্ষাগার) নেই। এই ক্যাম্পগুলো নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে তাদের অনুমোদনকৃত মেডিক্যাল বা শাখাগুলোতে পাঠাত। এরপর সেখান থেকে পরীক্ষার ফলাফল পাবনা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মকর্তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাত।

অভিযোগ রয়েছে, নমুনা সংগ্রহকারী এসব মেডিক্যালের ক্যাম্পগুলোর কোনো কোনোটি নামকাওয়াস্তে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ঝুপড়ি ঘরে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের গাদাগাদি করে নমুনা সংগ্রহ করছিল। সংগৃহীত নমুনাগুলোও ত্রুটিপূর্ণ টিউবে রাখা হতো। আবার নমুনাগুলো যথাসময়ে পরীক্ষাগারে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। এ কারণে বেশির ভাগ রিপোর্টই ভুল আসত। এমনকি সুকৌশলে মেডিক্যালগুলো শতকরা হারে পরিকল্পিত রিপোর্ট দিত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরএনপিপিতে কর্মরত শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে করোনাভাইরাসের নমুনা চরম অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে সংগ্রহ করা হতো। আবার আনুপাতিক হার ধরে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়া হতো। সেসব রিপোর্টে যারা প্রকৃত করোনায় পজিটিভ, তাদের নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে কাজ করানো হতো। আবার যারা আক্রান্ত নয় বা বাস্তবিকই পজিটিভ নয়, তাদেরও পজিটিভ দেখিয়ে মনগড়া রিপোর্ট দেওয়া হতো। এর ফলে প্রকল্পে আক্রান্তের হার অনেক অনেক গুণ বেড়ে গেছে। রূপপুর, পাকশী, সাহাপুর, সলিমপুর, দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, ভেড়ামারাসহ প্রকল্পের আশপাশের ঘরে ঘরে করোনা রোগী বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে চিকিৎসাধীন।

আরএনপিপি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কমিটির সদস্যসচিব ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পি এম ইমরুল কায়েস কালের কণ্ঠকে জানান, প্রকল্পের গ্রিনসিটি এলাকায় অত্যন্ত অব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্য দিয়ে কম্পানির শ্রমিকদের গাদাগাদি করে নমুনা সংগ্রহের চিত্র প্রায়ই চোখে পড়েছে।

ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল ঢাকার মেরাদির ইনচার্জ সাইফুল্লাহ মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, কোরবানির ঈদের চার দিন আগে থেকে ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেডের পরিচালক হাদিস হাওলাদারের বরাত দিয়ে ক্যাম্প নিরাপত্তা তদারক নজরুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ক্যাম্পগুলোতে করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করা হতে পারে।

রূপপুর আণবিক শক্তি কমিশনের সাইট অফিসের ইনচার্জ কে বি এম রুহুল কুদ্দুস কালের কণ্ঠকে জানান, নমুনা সংগ্রহকারী ১১টি ক্যাম্পই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নমুনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ রেখেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিস্তারিত কিছু তিনি জানেন না। 

পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, আরএনপিপি এলাকায় করোনার নমুনা সংগ্রহে নিয়োজিত ১১টি মেডিক্যালের ক্যাম্পই চরম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণঝুঁকি নিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ করে আসছিল। তাদের দেওয়া রিপোর্টগুলোও অসামঞ্জস্য বা ত্রুটিপূর্ণ। এ কারণে দিন দিন প্রকল্পে ও প্রকল্প এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার বেড়েই চলেছে। ক্যাম্পগুলোর নমুনা সংগ্রহ ও তাদের দেওয়া রিপোর্টগুলো যে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ, তা চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তা ছাড়া প্রকল্প এলাকায় ওই সব মেডিক্যালের ল্যাব নেই। তাই সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরএনপিপিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মকর্তাদের করোনা পরীক্ষা কিভাবে করা হবে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন জানান, প্রকল্পের গ্রিনসিটি এলাকায় ডিএমএফআর মলিকিউলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নিউ গ্রিন সিটি হাসপাতাল রয়েছে। প্রকল্প এলাকায়ই তাদের ল্যাব রয়েছে। আপাতত এই দুটি হাসপাতালই করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করবে।

 



সাতদিনের সেরা