kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

বেড়েছে যান চলাচল ঢিলেঢালা চেকপোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেড়েছে যান চলাচল ঢিলেঢালা চেকপোস্ট

লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ। জরুরি প্রয়োজনে ভ্যানে করেই অনেককে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। বাবুবাজার ব্রিজ থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের জারি করা বিধি-নিষেধের তৃতীয় দিন গতকাল রবিবার রাজধানীর সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা চলাচল বেশি ছিল। একই সঙ্গে বেড়েছে হাঁটা মানুষের সংখ্যা। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়েছে। এতে সকালের দিকে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে গাড়ির চাপ লক্ষ করা যায়। তবে সকালের পর থেকে তল্লাশি চৌকিগুলোতে ঢিলেঢালা ভাব শুরু হয়।

পুলিশের তল্লাশি চৌকির পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যদের সড়কে টহল দিতে দেখা যায়। অপ্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বের হয়েছে তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাড়ির নামে মামলা হয়েছে, গুনতে হয়েছে জরিমানা।

সকালে সিটি কলেজের সামনে তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। প্রায় প্রতিটি গাড়িই থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কলাবাগান, ধানমণ্ডি-২৭, আসাদ গেট, বিজয় সরণি এলাকায় তল্লাশি চৌকিতে কাউকে দেখা যায়নি। ৪টার দিকে হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজা থেকে তেজগাঁও লিংক রোডমুখী সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখা যায়। এ ছাড়া গুলশান এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। তবে গতকাল এই তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের শক্ত অবস্থান দেখা যায়নি। ঢিলেঢালা চেকপোস্ট পেরিয়েই মানুষ ঢাকা শহরে ঢুকেছে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোর থেকেই মানুষজনকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছি। সবাই জরুরি প্রয়োজনের কথাই বলছেন। অনেকেই বলেছেন আজ (গতকাল) থেকে তাঁদের অফিস খোলা।’

গাবতলী এলাকায় রাজধানীর বাইরে থেকে যাত্রী প্রবেশের ঘটনা তেমন চোখে পড়েনি। মোটরসাইকেলে বেশ কিছু লোক ঢাকায় এসেছে। আমিনবাজার সেতুর ওপর থেকে রিকশায় শহরে প্রবেশ করেন শিহাবউদ্দিন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছেন এক হাজার ৩০০ টাকায়। এখন খিলগাঁও পর্যন্ত রিকশা নিয়েছেন ৫০০ টাকায়। শিহাবউদ্দিনের সঙ্গে থাকা ব্যাগে শাকসবজি দেখা যায়। গ্রামের বাড়ি থেকে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকার ভেতরে পুলিশে ধরলে বলব বাজার করতে গিয়েছিলাম।’

সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, জিগাতলা, রাসেল স্কয়ার এলাকা ঘুরে তল্লাশি চৌকিগুলোতে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। গত দুই দিনের তুলনায় এসব তল্লাশি চৌকিতে গাড়ির জটলা বেশি ছিল। ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশার পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো। এসবের বেশির ভাগই ছিল বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির কর্মীদের।

বিধি-নিষেধের মধ্যে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৩৩ জনকে এক লাখ ৯৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ আর ৫২১টি গাড়ির নামে মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এসব মামলার বিপরীতে ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

গত দুই দিনের তুলনায় রিকশাভাড়া কিছুটা কমলেও এখনো অন্তত দিগুণ ভাড়া হাঁকছেন চালকরা। আজিমপুর মোড় থেকে জিগাতলায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ব্যাংককর্মী সারওয়ার মিয়া। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময় ৫০-৬০ টাকায় যাওয়া গেলেও এখন ১২০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। রাস্তায় রিকশা থাকলেও সবাই অতিরিক্ত ভাড়া চায়।’ ওই মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালক জামাল বলেন, ‘সারা দিনে খ্যাপ তো বেশি পাই না। সকাল-বিকেল দুই বেলা কিছু যাত্রী আসে। সন্ধ্যার পর রাস্তা খালি হয়ে যায়। ভাড়া একটু বেশি না নিলে চলুম কেমনে।’

লকডাউনেও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের রাজধানীতে আসা-যাওয়া থামছে না। ভিড় বেড়েছে ফেরিঘাটগুলোতে। গতকাল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলোতে যাত্রীর বেশ চাপ ছিল।



সাতদিনের সেরা