kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

২১ কোটি ডোজ টিকার প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



২১ কোটি ডোজ টিকার প্রতিশ্রুতি

কেনা, উপহার ও অনুদান মিলিয়ে ২১ কোটি ডোজ কভিড টিকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়ার এক কোটি ডোজ স্পুিনক-ভি, চীনের সিনোফার্মের তিন কোটি, অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি, কোভ্যাক্সের আওতায় সাত কোটি এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের সাত কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা হয়েছে। এগুলো পেলে যথাসময়েই দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামীকাল সোমবার বা পরশু মঙ্গলবারের মধ্যে আরো ৩০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসবে। টিকা সংরক্ষণে ২৬টি কোল্ড ফ্রিজার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনা হয়েছে। এগুলোয় ‘মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে’ রাখার মতো টিকাও সংরক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন করে আরো যে টিকা আসবে সেগুলো সংরক্ষণেও কোনো সমস্যা হবে না।

এদিকে টিকার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান থেকে গতকাল বিকেলে দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা এসেছে। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির উপস্থিতিতে এগুলো গ্রহণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জাপান প্রায় ৩০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা বাংলাদেশকে দেবে। গতকাল ঢাকায় পৌঁছা টিকা জাপানের প্রতিশ্রুত টিকার প্রথম চালান। শিগগিরই প্রতিশ্রুত টিকার অন্য অংশও বাংলাদেশে আসবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম গতকাল এক ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে জাপান থেকে টিকার দ্বিতীয়  চালান আসবে। যাঁরা অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা সবাই এই চালান থেকে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

এদিকে বিমানবন্দরে জাপানের টিকার চালান গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিগগিরই বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে করোনাভাইরাসের টিকা যৌথভাবে উৎপাদন শুরু হবে। সব কাগজপত্র তৈরি আছে। চুক্তিপত্রও পেয়েছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। যেকোনো মুহূর্তে আমরা যৌথভাবে টিকা উৎপাদন শুরু করব।’

টিকা যৌথভাবে উৎপাদন হবে, নাকি বোতলজাতকরণের কাজ হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আমাদের বাল্ক মেডিসিন পাঠাবে, আমাদের এখানে বোতলজাত ও লেবেলিং করা হবে।’

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, অনেক বাংলাদেশি অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য জাপানি জনগণ বাংলাদেশের বন্ধুদের কাছে এই টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশকে সহযোগিতার জন্য সব সময় জাপান প্রস্তুত।

এদিকে গতকাল আসা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টিকা নিয়ে দেশে মোট টিকা প্রাপ্তির হিসাব পৌঁছে গেছে দুই কোটি ১২ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজে। এর মধ্যে অক্সফোর্ডের এক কোটি পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ২০০, চীনের সিনোফার্মের ৫১ লাখ, মডার্নার ৫৫ লাখ এবং ফাইজারের এক লাখ ৬২০ ডোজ। এগুলোর মধ্যে অক্সফোর্ডের ৭০ লাখ ডোজ সরকারের চুক্তির আওতায় কেনা, ৩৩ লাখ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপহার এবং বাকি দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ কোভ্যাক্সের আওতায় জাপান সরকারের উপহার হিসেবে দেওয়া। সিনোফার্মের ৪০ লাখ কেনা এবং চীন সরকারের উপহার ১১ লাখ। ফাইজার ও মডার্নার সব টিকাই কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় এসেছে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট টিকা দেওয়া হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৭৬৮ ডোজ। এর মধ্যে দুই ডোজ পূর্ণ হয়েছে ৪৩ লাখ দুই হাজার ৭৭১ জনের। অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জনকে। তাঁদের মধ্যে দুই ডোজ পূর্ণ হয়েছে ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬ জনের। এ ছাড়া ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫০ হাজার ২১৭ জন। এর মধ্যে দুই ডোজ পূর্ণ করেছেন ১৩৮ জন। মডার্নার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৩০ লাখ ছয় হাজার ১২৩ জন। এ ছাড়া সিনোফার্মের প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১১ লাখ ৭২ হাজার ৬২৪ জন। তাঁদের মধ্যে দুই ডোজ পূর্ণ করেছেন চার হাজার ৫৪৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৫৮৬ জন মডার্নার, এক লাখ ২২ হাজার ৯৬৪ জন সিনোফার্মের এবং ১১৩ জন ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। ফাইজারের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৩৮ জন এবং সিনোফার্মের এক হাজার ২২৮ জন।

ভারত থেকে তরল মেডিক্যাল অক্সিজেন নিয়ে এলো ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’

২০০ টন তরল মেডিক্যাল অক্সিজেন নিয়ে ভারতীয় রেলওয়ের ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ গতকাল বাংলাদেশে এসেছে। এর আগে গতকাল দুপুরে ভারতের প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন ব্যুরো জানায়, ট্রেনটিতে ১০টি কনটেইনার রয়েছে। গতকাল ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তরল মেডিক্যাল অক্সিজেন ভর্তি কনটেইনার লোডিং শেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়। এই অক্সিজেন দেশের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হবে। গত ২৪ এপ্রিল ভারতে এই বিশেষ ট্রেন সেবা শুরুর পর থেকে এই প্রথম প্রতিবেশী দেশে অক্সিজেন এক্সপ্রেস চালু হলো।

ওই অক্সিজেন আমদানিকারক লিন্ডে বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র বলেন, লিন্ডে ইন্ডিয়া অক্সিজেন এক্সপ্রেস উদ্যোগটি নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করে আসছিল। আমদানি করা মেডিক্যাল অক্সিজেন ভারতে লিন্ডে ইন্ডিয়ার প্লান্টস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সারা দেশে কভিড-১৯ চিকিৎসায় নিবেদিত হাসপাতালগুলোতে এটি বিতরণ করা হবে।

২৫০ ভেন্টিলেটর উপহার : এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে ২৫০টি পোর্টেবল ভেন্টিলেটর দেশে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় ওই ভেন্টিলেটরগুলো ঢাকায় এসে পৌঁছায়। এগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে দেওয়া হবে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।