kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

কোরবানির বর্জ্য সরলেও সরেনি হাটের বর্জ্য

শম্পা বিশ্বাস   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কোরবানির বর্জ্য সরলেও সরেনি হাটের বর্জ্য

রাজধানীর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেখা গেলেও কোথাও ছিল ভিন্ন চিত্র। সড়কে বর্জ্যের ভাগাড়ের এই ছবি পুরান ঢাকার পোস্তা থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদের দিন থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রায় ৩৩ হাজার ২৫১ টন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তবে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা থাকলেও পশুর হাটগুলোর বর্জ্য এখনো সরাননি ইজারাদাররা।

দ্রুততার সঙ্গে পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ না করায় রাজধানীর ১০টি অস্থায়ী হাটের ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে আজ শনিবার পর্যন্ত হাট পরিষ্কারের জন্য ইজারাদারদের সময় দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ঈদুল আজহার দিন কোরবানি শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে—ঢাকার দুই মেয়রের এমন ঘোষণা ছিল আগে থেকেই। কিছুটা বিচ্যুতি ছাড়া সে অনুযায়ী কাজও হয়েছে। গত তিন দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একদিকে মানুষ কোরবানি দিচ্ছে, অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে নিয়ে যাচ্ছে সেই বর্জ্য।

কোরবানির প্রথম দিন দুপুর ২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১১টার পর থেকেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়। এ বছর কোরবানির বর্জ্য অপসারণে দুই সিটির মোট সাড়ে ২১ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। লোকবল সংকটের কারণে কোনো ধরনের শিফটিং ছাড়াই টানা তিন দিন ধরে কাজ করেছেন এসব কর্মী। আজ শনিবারও তাঁদের কার্যক্রম চলবে।

ডিএনসিসির এলাকা থেকে তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৩৩ টন। এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বর্জ্য আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ৪৩৮টি গাড়ি। অন্যদিকে ডিএসসিসির এলাকা থেকে গতকাল পর্যন্ত অপসারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৮ টন কোরবানির বর্জ্য। এতে ডিএসসিসির প্রায় ১০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছে। নিয়োজিত রয়েছে তিন শতাধিক গাড়ি।

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোরবানির প্রথম দিনটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের ছিল। ওই দিন আমরা প্রায় ১১ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছি। তবে মূল চ্যালেঞ্জটা ছিল যানবাহন নিয়ে। রাস্তায় বসা চামড়ার হাটের কারণে গাবতলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত আমরা সমস্যায় পড়েছি। এই হাটগুলোর কারণে বর্জ্যের বড় গাড়িগুলো সঠিক সময়ে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড থেকে ফিরতে পারছিল না। যদিও শেষ পর্যন্ত আমরা সময়মতো কাজ শেষ করতে পেরেছি।’

এদিকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হলেও এখনো ঢাকার দুই সিটির বেশির ভাগ পশুর হাট থেকে বর্জ্য সরাননি ইজারাদাররা। গতকাল আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর-বসিলা ও মেরাদিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায় হাটে গোবর, খড়, ভাঙা বাঁশ-খুঁটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। দুর্গন্ধে টেকা দায়। হাটের বিষয়ে এমন অভিযোগ জানতে পেরেছে ডিএসসিসি। এ বছর সংস্থাটির অস্থায়ী হাট ছিল ১০টি। হাটের বর্জ্য অপসারণ না করার অভিযোগে এরই মধ্যে ডিএসসিসি তাদের সব হাটের জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি। তবে হাটের বর্জ্য সরানোর দায়িত্ব ছিল ইজারাদারদের। তাঁরা সেটা করেননি বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ফলে আমরা তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করব। পাশাপাশি পরেরবার এসব ইজারাদারকে কোনোভাবেই হাট ইজারা দেওয়া হবে না।’

ডিএনসিসিতে এবার অস্থায়ী পশুর হাট ছিল আটটি। গতকাল পর্যন্ত সরেনি সব হাটের বর্জ্য। সংস্থাটি আজ পর্যন্ত ইজারাদারদের সময় দিচ্ছে। এর মধ্যে হাটের বর্জ্য অপসারণ করা না হলে তারাও ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত করবে।

নির্ধারিত জায়গায় কোরবানি দিতে অনীহা নগরবাসীর : এ বছর কোরবানির জন্য ডিএনসিসি ২৭০টি স্থান নির্ধারণ করেছিল। কোরবানির পর কাটা মাংস বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল ২৫টি ফ্রিজার ভ্যান। ছিল ইমাম ও কসাইয়ের ব্যবস্থাও। তবে তাতে সাড়া মেলেনি নগরবাসীর। অন্যান্য বছরের মতো এবারও তারা কোরবানি দিয়েছে বাসাবাড়ির সামনে। ফলে সারা শহর ঘুরে বর্জ্য পরিষ্কার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।

ডিএনসিসির তথ্য মতে, এ বছর কোরবানির প্রথম দিন ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় তিন লাখ সাড়ে ১১ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই হয়েছে মাত্র চার হাজার ১৪৪টি। এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পশু জবাইখানাগুলোতে কোরবানির সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা ছিল। কিন্তু নগরবাসী তাতে সাড়া দেয়নি।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি বলছে, নগরবাসীর সাড়া না পাওয়ায় ২০১৯ সালের পর থেকে সংস্থাটি আর কোরবানির জন্য জায়গা নির্ধারণ করছে না। ফলে এ বছরও ছিল না কোনো ব্যবস্থা। এ বিষয়ে এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন বলেন, ‘নগরবাসী বিষয়টিকে হাস্যকর করে ফেলছে। জরিমানা বা বাধ্য করার ব্যবস্থা না করলে নগরবাসী নির্ধারিত জায়গায় কোরবানি দিতে যাবে না।’



সাতদিনের সেরা