kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

ঈদের দিন লবণের দাম বেশি পরের দিন স্বাভাবিক

ফারজানা লাবনী   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদের দিন লবণের দাম বেশি পরের দিন স্বাভাবিক

ঈদুল আজহা ঘিরে মধ্যস্বত্বভোগীরা লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে ঈদুল আজহার দিন দেশের বিভিন্ন এলাকার চামড়া সংগ্রহকারীরা প্রতি কেজি লবণ এক টাকা ৫০ পয়সা থেকে দুই টাকা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন। তবে লবণের দাম বাড়ানোর খবর পেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বিসিকের মনিটরিং সেল অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ঈদের পরের দিন কমে আবারও লবণের দাম স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এবার বিসিক থেকে কোরবানির পশুর চামড়ায় ব্যবহারের লবণ পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি ১২ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়।

চামড়া সংগ্রহকারীরা স্বাভাবিক দামে লবণ কিনতে পারছেন কি না, তা নিজেই যাচাই করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান শিল্পসচিব। এ ছাড়া লবণ মজুদদার মধ্যস্বত্বভোগীদের খোঁজে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান।

বিসিকের মহাব্যবস্থাপক (সম্প্রসারণ) সরোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানির পর লবণের চাহিদা বাড়ে। এই চাহিদা সামনে রেখে লবণের নিয়মিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিছু অসাধু ব্যক্তি আগেই লবণ কিনে মজুদ করে। সীমিত কিছু জায়গায় দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে। বিসিকের মনিটরিং সেল এ সংবাদ পেয়েই ব্যবস্থা নেয়। এতে লবণের বাজার আবারও স্বাভাবিক হয়ে যায়। আমি নিজেই আজকে (গতকাল শুক্রবার) সারা দিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে লবণের সরবরাহ এবং দাম নজরদারি করছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেকে শিল্প-কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের কথা বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে লবণ আমদানি করে। মধ্যস্বত্বভোগীরা আমদানি করা লবণ আগেই কিনে মজুদ করে ঈদুল আজহার আগের দিন থেকে কোরবানির দিন সকাল পর্যন্ত বেশি দামে দেশের অনেক জায়গায় বিক্রি করে। ঈদুল আজহার চাহিদা সামনে রেখে সিন্ডিকেট করে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কাজ করেন। পশু কোরবানি হওয়ার পর বাজারে লবণের সংকট তৈরি করার চেষ্টা করেন তাঁরা। চামড়ার গুণগত মান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে বাধ্য হয়েই বেশি দামে লবণ কেনেন।

এবার সারা দেশে ঈদুল আজহায় ন্যায্য মূল্যে লবণের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং এ বিষয়ে সব ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করতে বিসিকের (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) প্রধান কার্যালয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়। এসব কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি জেলায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা পর্যায়ের বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করেও একটি করে কমিটি গঠন করা হয়।

বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল আজহায় লবণ নিয়ে সীমিত পরিসরে জালিয়াতির চেষ্টা করা মাত্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা