kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

কওমি মাদরাসা বন্ধ

তবু কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে ছাত্রদের নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তবু কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে ছাত্রদের নির্দেশনা

করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে মাদরাসার আবাসিক-অনাবাসিক ছাত্ররা বড় ভূমিকা রাখে। তবে এবার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মাদরাসা বন্ধ থাকলেও ঈদুল আজহার দিন ও পরের দিন কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য ছাত্রদের নির্দেশনা দিয়েছে অনেক কওমি মাদরাসা। মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহে বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়েছে। স্থানীয় লোকজনের প্রতি চামড়া দেওয়ার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, সারা দেশে ছোট-বড় প্রায় ২০ হাজার কওমি মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসায় শিক্ষার্থী সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মাদরাসা প্রতিবছর ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য মাঠে কাজ করে। বলা হয়, কওমি মাদরাসাগুলোর বার্ষিক খরচ মেটানোর জন্য আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস কোরবানির পশুর চামড়া।

কওমি মাদরাসাগুলোর নিয়ন্ত্রক ‘অরাজনৈতিক’ ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দেশের বৃহত্তম কওমি মাদরাসা চট্টগ্রামের দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী বড় মাদরাসা)। এ মাদরাসায় প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর বড় একটি অংশ আবাসিক। মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দেশের দূর-দূরান্তের অনেক এলাকার কিছু শিক্ষার্থী মাদরাসায় রয়েছে। অন্য কওমি মাদরাসাগুলোর মধ্যেও কিছু কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী আছে।

জানা যায়, গত ঈদুল আজহায় হাটহাজারী বড় মাদরাসার উদ্যোগে প্রায় পাঁচ হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। দেশের আরো অনেক কওমি মাদরাসায়ও চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত ঈদে আড়াই লাখের বেশি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। চামড়াগুলোর প্রায় সবই মাদরাসাকে দান করা হয়েছিল। যেসব চামড়া কেনা হয়েছিল, তা-ও নামমাত্র মূল্যে। ঈদুল আজহাকে ঘিরে প্রতিবছর কওমি মাদরাসাগুলো পরিকল্পনা নিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে।

জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরিস গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একসময় অনেক চামড়া সংগ্রহ হতো। তখন চামড়ার দাম বেশি ছিল। কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম কমে গেছে। এবার মাদরাসা বন্ধ থাকায় আমরা আশা করছি স্থানীয় লোকজন নিজেদের উদ্যোগে মাদরাসায় চামড়া দান করে সহযোগিতা করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা দাবি জানিয়ে আসছিলাম কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সরকার করোনার বিষয়টি বিবেচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছিল। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ আছে। তবে মাদরাসায় আবাসিকের কিছু শিক্ষার্থী আছে।’

সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহি বলেন, ‘সব কওমি মাদরাসার উদ্যোগে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয় না। এক-তৃতীয়াংশ মাদরাসা চামড়া সংগ্রহ করে। গত বছর দুই লাখ ৭০ হাজারের মতো কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। করোনার কারণে গতবারের চেয়ে এবার পশু কোরবানি কিছুটা কম হতে পারে। তার পরও আমরা আশাবাদী, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও মুসল্লিরা তাঁদের কোরবানির পশু চামড়া কওমি মাদরাসায় দিয়ে সহযোগিতা করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাদরাসা বন্ধ থাকলেও পুরনো শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ঈদের দিন ও পরের দিন কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি চামড়াশিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতা করার, যাতে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়।’

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, ১০ এপ্রিল থেকে তাণ্ডব-নাশকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু হয়। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাসহ সারা দেশে কয়েক শ কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে হেফাজতের দুই পক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে আলাদাভাবে একাধিকবার সৌজন্য সাক্ষাত্ করে। বলা হয়, এসব সাক্ষাতে নেতাকর্মীদের মুক্তির পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল মাদরাসা খুলে দেওয়ার।