kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

কলকাতায় জঙ্গি সন্দেহে তিন বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

সন্দেহভাজন আরেকজন পালিয়ে দেশে এসেছেন

গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়া প্রতিনিধি   

১৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলকাতায় জঙ্গি সন্দেহে তিন বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার হরিদেবপুরে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য সন্দেহে গত শনিবার তিন বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর দুই দিন আগে সেখান থেকে সন্দেহভাজন আরেকজন পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন বলে সেখানকার একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

পালিয়ে আসা ব্যক্তির নাম সেলিম মুন্সি (৪৫)। তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামের মৃত সুরাত মুন্সির ছেলে। আর গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রবিউল ইসলাম, সাব্বির ওরফে মিকাইল ও নাজিউর রহমান ওরফে পাভেল। তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজনের বাড়ি কোটালীপাড়ার হিরণ গ্রামে। রবিউলের বাবার নাম ইলিয়াছ খান এবং সাব্বিরের বাবা মোসলেম খান। নাজিউরের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে।

তবে তাঁদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী ও তাঁদের পরিবার।

গতকাল মঙ্গলবার হিরণ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সেলিমকে পাওয়া যায়নি। সেলিম মুন্সির স্ত্রী শাহিনুর বেগম জানান, ২০ বছর ধরে তাঁর স্বামী কলকাতার সোদপুরে ব্যবসা করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি বাড়ি এসেছেন। সেলিমের বড় ভাই হালিম মুন্সিও কলকাতায় থাকেন বলে জানান তিনি।

সেলিমের স্ত্রী শাহিনুর বেগম বলেন, ‘২০ বছর ধরে আমার স্বামী কলকাতায় থাকেন। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসেন। প্রথমে কলকাতায় গিয়ে ছাতা মেরামতের কাজ শুরু করেন। এরপর দেশ থেকে লোক নিয়ে যান। আমাদের গ্রামের রবিউল ও মিকাইল এবং টুঙ্গিপাড়ার নাজিউর আমার স্বামীর কাছে কাজ করতেন বলে শুনেছি।’

তাঁরা সবাই পেটের দায়ে কাজ করতে কলকাতা গেছেন জানিয়ে শাহিনুর বলেন, ‘জঙ্গির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ আর তাঁর স্বামী সোমবার বিকেলে এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে কোথায় গেছেন তা সাংবাদিকদের জানাননি।

হিরণ গ্রামের তুহিন মুন্সি নামের এক বাসিন্দা বলেন, সেলিম, রবিউল এলাকায় ভালো লোক বলে পরিচিত। তাঁরা কোনো মাদরাসায় লেখাপড়া করেননি। তাঁদের জানা মতে, জঙ্গিদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। সাব্বিরসহ সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। সংসার চালাতে কলকাতায় ছাতা মেরামতের কাজ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা।

রবিউলের বাবা ইলিয়াছ খান জানান, পাশের গ্রামের একটি মেয়ের সঙ্গে রবিউলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছয় মাস আগে ওই মেয়ের পরিবার তাঁর ছেলের নামে মামলা করে। এরপর তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এর পর থেকে তাঁদের সঙ্গে রবিউলের যোগাযোগ নেই।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘ভারতে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। এদের সম্পর্কে এখনো কেউ কিছু জানতে চায়নি। এর পরও এদের খোঁজখবর নেব। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’