kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

হর্ন বাজানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা

গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আশিকুর রহমান রকিকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা পৌরসভার পূর্বপাড়ায় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রকি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মধ্য কঞ্চিপাড়া গ্রামের প্রয়াত ইউপি সদস্য ছইদার রহমানের ছেলে।

মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে এ হত্যাকাণ্ড বলে ছাত্রলীগ জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রকি রবিবার রাতে শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে মোটরসাইকেলে করে কঞ্চিপাড়ায় বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সোহেল ও প্লাবন নামে দুজন। শহরের পূর্বপাড়ার হালিম বিড়ি ফ্যাক্টরির কাছে পৌঁছলে সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পূর্বপাড়ার নবাব আলীর ছেলে কাঞ্চন ও তাঁর সহযোগীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তারা ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রকিকে গুরুতর আহত করে। আহত হয়েছেন সোহেল ও প্লাবনও। হামলার সময় অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে আসা আব্দুল মমিন মাস্টার এগিয়ে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। রকির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রকিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সোহেল, প্লাবন ও আব্দুল মমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে নিহতের বড় ভাই আতিকুর রহমান সরকার বাদী হয়ে কাঞ্চন, ইমরান, মানিক মিয়া ও সোহাগ মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের সবার বাড়ি গাইবান্ধা শহরে।

গাইবান্ধা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আসিফ সরকার জানান, দুই মাস আগে পূর্বপাড়া এলাকার নবাব আলীর ছেলে কাঞ্চনের সঙ্গে রকির মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে কাঞ্চন তার দলবলসহ রকির ওপর হামলা চালায় বলে দাবি তাঁর। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম সেলিম পারভেজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তোহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।