kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুই সপ্তাহের ত্রাণ বরাদ্দ

পরিবহন শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




দুই সপ্তাহের ত্রাণ বরাদ্দ

লকডাউন পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেনারেল রিলিফ বা জিআর হিসেবে চাল ও নগদ টাকা, ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের। এই বরাদ্দ দিয়ে দুই সপ্তাহের মতো ত্রাণ কার্যক্রম চালানো যাবে। দুই দফায় ৩৫ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

এই বরাদ্দের মধ্যে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার আগে গত ২৭ জুন ২৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং লকডাউন চলা অবস্থায় গত ৪ জুলাই ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকার ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন অর্থবছরে দেওয়া প্রথম বরাদ্দে কর্মহীন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদেরও ত্রাণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ভিজিএফ বরাদ্দের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অবহিত করার জন্য ডিসিদের বলা হয়েছে।

ডিসিরা বলছেন, ঈদ পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে সমস্যা হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলছে, ত্রাণ বরাদ্দে কৃপণতা করছে না সরকার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘ওই দুই দফা দেওয়া বরাদ্দের সঙ্গে আগে থেকে যে পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী ডিসিদের হাতে আছে তা পর্যাপ্ত। আজকেও (গত সোমবার) নদীভাঙনপ্রবণ ১০টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক করেছি। তাঁরাও বলেছেন যে ত্রাণের ঘাটতি নেই। হাতে যা আছে তা দিয়ে তাঁরা দুই সপ্তাহ চালাতে পারবেন। এর পরও যদি কোনো জেলায় সমস্যা হয়, বললেই সঙ্গে সঙ্গে বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের কাছে ত্রাণের কোনো সমস্যা নেই।’

মন্ত্রণালয় ও জেলা পর্যায় থেকে ত্রাণের সমস্যা নেই বললেও মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ দৃশ্যমান নয়। এ বিষয়ে কয়েকটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বললে তাঁরা কালের কণ্ঠকে জানান, কঠোর লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে ত্রাণ বিতরণের দিকে নজর দেওয়া যায়নি। তবে ৩৩৩ নম্বরে আসা সহায়তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। লকডাউন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছিল। চলতি সপ্তাহে মাঠে ত্রাণ কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরাও বলছেন, তাঁরা বরাদ্দ পাচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিতরণ করেছেন। তবে বড় আকারে কার্যক্রম শুরু হবে কয়েক দিনের মধ্যে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ গত সোমবার কালের কণ্ঠকে জানান, এবারের লকডাউন শুরু হওয়ার পর প্রথম বরাদ্দ পেয়েছেন গত রবিবার। তাঁর ইউনিয়নে ২৯১ জনের জন্য ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়। তবে তিনি বলেন, গত সোমবার দুই হাজার ৪০০ জনের জন্য ভিজিএফের বরাদ্দ পেয়েছেন। এই বরাদ্দ পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিজিএফে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, লকডাউন উপলক্ষে তাঁর ইউনিয়নে আড়াই লাখ টাকা জিআর বরাদ্দ পেয়েছেন। এই টাকা ৫০০ জনের মধ্যে বিতরণ করেছেন গত সোমবার। ভিজিএফের বরাদ্দ পাবেন ৮০০ কেজি চাল। ১০ কেজি করে ৮০ জনকে দেবেন।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর ইউনিয়নের দুই হাজার কেজি চাল বরাদ্দ পেয়েছেন। গত সোমবার পর্যন্ত ৩৭ জনকে ১০ কেজি করে দিয়েছেন। আরো সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে, ইউএনও কার্যালয়ে থেকে যেভাবে বলবে, সেভাবে এই টাকা বণ্টন করা হবে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে সারা দেশে এক লাখ ১৭৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে এক কোটি ১৭ হাজার ৫১টি পরিবার উপকৃত হবে। এ ছাড়া করোনা দুর্যোগে ডিসিদের কাছে জরুরি মজুদের জন্য দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ১০০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং এক কোটি ৪১ লাখ জিআর নগদ টাকা।

অন্যদিকে জরুরি বিতরণের জন্য পাঁচ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং তিন কোটি এক লাখ জিআর নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সব সিটি করপোরেশনের জন্য দেওয়া হয়েছে ৮০০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং চার কোটি জিআর নগদ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের জন্য প্রতিটিতে ৫০ লাখ করে টাকা এবং ১০০ টন করে চাল দেওয়া হয়েছে। বাকি আটটি সিটির জন্য ২৫ লাখ করে টাকা এবং ৫০ টন করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ৩২৮টি পৌরসভার জন্য তিন হাজার ২৮০ টন জিআর চাল এবং জিআর নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে তিন কোটি ২৮ লাখ। অর্থাৎ প্রতিটি পৌরসভায় এক লাখ করে টাকা এবং ১০ টন করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। সব মিলিয়ে এক লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ৭০ লাখ।

 



সাতদিনের সেরা