kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

চট্টগ্রামের পরিস্থিতি

হঠাৎ পুরুষের চেয়ে বেশি নারী রোগী

হাসপাতালে বাড়ছে ভর্তি

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 হঠাৎ পুরুষের চেয়ে বেশি নারী রোগী

চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় শনাক্ত রোগীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারী। মৃত্যুহারে পুরুষের অর্ধেকেরও কম তাঁরা। তবে কয়েক দিন ধরে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিতে পুরুষের চেয়ে বেড়েছে নারীর সংখ্যা। এর মধ্যে অনেকেই কম বয়সী। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোর করোনা ওয়ার্ডে শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে সার্বিক ভর্তির সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে (রেড জোন) গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিল ১৩৩ জন, যা মোট শয্যার ৮৮.৬৭ শতাংশ। চিকিৎসকরা জানান, গত ১৫ মাসের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এর আগের দিন চিকিৎসাধীন ছিল ১১০ জন। করোনার ছয়টি আইসিইউ শয্যাতেই রোগী আছে। এ ছাড়া ইয়েলো জোনে (করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি) আগের দিন ৫৫ জন ভর্তি থাকলেও গতকাল তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ৬৫ জনের মধ্যে ৩৩ জন নারী, ৩২ জন পুরুষ। আগের দিনের ৫৫ জনের মধ্যে নারী ছিল ২৯ জন, পুরুষ ২৬।

চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালের ইয়েলো জোনে এত বেশি নারী রোগী আগে দেখা যায়নি। এবার করোনার সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ায় নারীরাও বেশি সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সমন্বয়ক মেডিসিন বিভাগেরসহযোগী অধ্যাপক ডা. সৌমেন সরকার বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউয়ে গত বছর আমরা হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৭০ জনের মতো রোগী দেখেছিলাম। কিন্তু আজকে প্রায় তা দ্বিগুণ।’ নারীদের বেশি ভর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলে এই ভেরিয়েন্টে নারী-পুরুষ কিংবা ছোট ছেলে-মেয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। কমবেশি সবাই আক্রান্ত হচ্ছে। এটা উদ্বেগের।’

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৪০ শয্যার আইসোলেশনে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৭৪ জন ভর্তি ছিল। করোনা ওয়ার্ডের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. আবদুর রব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোগী ভর্তি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নারী। সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তা একটু ভয়ংকর। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।’

চট্টগ্রামের সরকারি অপর হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদও জানান, রোগী ভর্তি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। ৫০ শয্যার মধ্যে গতকাল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৩৭ জন চিকিৎসাধীন ছিল সেখানে।

চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেও সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন। তাঁদের আশঙ্কা, যেভাবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামীতে শয্যা খালি পাওয়া কঠিন হবে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এটা উদ্বেগের বিষয়। তবে করোনা পরীক্ষা বেশি হলে শনাক্ত বাড়বে। শনাক্ত বাড়লে এসব রোগীকে আলাদা করা যায়। এটা ইতিবাচক।’

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে সংক্রমণ বাড়ছে। তবে এখনো তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।’ চলমান লকডাউনে সংক্রমণ কমে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গতকাল পর্যন্ত নগর ও জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে নারী ২০ হাজার ৫১৫ জন (যা মোট শনাক্তের ৩৩.৬৭ শতাংশ) ও পুরুষ ৪০ হাজার ৪১২ জন (যা মোট শনাক্তের ৬৬.৩৩ শতাংশ)। এর মধ্যে মারা যাওয়া ৭২২ জনের মধ্যে নারী ২৩০ জন এবং পুরুষ ৪৯২ জন। মোট শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুহার ১.১৯ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গত রবিবারের তথ্যমতে, কভিড বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর মধ্যে সরকারিতে ৯৫০টি শয্যার মধ্যে ২৬৫টি ও বেসরকারিতে ৬৫০টি শয্যার মধ্যে ৪৮২টিতে করোনা রোগী চিকিৎসাধীন আছে।