kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হাইকোর্ট ও আইনজীবীর মধ্যরাতের হস্তক্ষেপ

বগুড়ায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটের সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটের সমাধান

হাইকোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর হস্তক্ষেপে আপাতত বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটের সমাধান হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বেসরকারিভাবে ২০টি ক্যানুলা লাগানো হয়েছে। আর আজ রবিবার সরকারিভাবে আরো ১০ থেকে ১৫টি ক্যানুলা লাগানো হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটের কারণে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন না পেয়ে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত সাত রোগীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই তথ্য জানার পর শুক্রবার মধ্যরাতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের মাধ্যমে বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নজরে আনেন। তিনি আদালতের উদ্দেশ্যে একটি এসএমএস পাঠান রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে। সেই এসএমএস রাতেই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমকে পাঠানো হয়। ওই এসএমএসে বলা হয়, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটে রোগীদের জীবন হুমকির মুখে। রোগীর জীবন বাঁচাতে আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ প্রয়োজন।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গতকাল শনিবার জানান, বিষয়টি জানার পর আদালত এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নিতে বলেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানানো হয়, গতকাল শনিবার বেসরকারিভাবে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০টি ক্যানুলা লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া আজ রবিবার সরকারিভাবে ১০-১৫টি ক্যানুলা লাগানো হবে। এই তথ্য গতকাল সকালে আদালতকে অবহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এরপর বিষয়টি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদকে জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ কারণে আদালতের আদেশের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘এখানে মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। এটার সমাধানের জন্য আমাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হলো। আদালত ও অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপ লাগল।’

জানা যায়, ২০০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২২৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের  বেশির ভাগেরই উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু হাসপাতালটিতে মাত্র দুটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থাকায় দুজনের অতিরিক্ত আর কোনো রোগীকে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮৭’র নিচে ছিল তাঁদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই হাসপাতালসহ জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ক্যানুলা সংকটের কথা আগেই চিঠি দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। কিন্তু পরিস্থিতির সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় আদালতের শরণাপন্ন হন আইনজীবী।



সাতদিনের সেরা