kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি

বাহরাম খান ও সজিব ঘোষ   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি

করোনাভাইরাসের বিস্তার সামাল দিতে সারা দেশে জারি করা এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে গতকাল শনিবার। কিন্তু ত্রাণ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। অথচ চলমান লকডাউন ঘিরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ২৭ জুন সব জেলায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া লকডাউনকে সরকারি ভাষায় ‘বিধি-নিষেধ’ বলা হলেও বাস্তবে তা সাধারণ ছুটির রূপ নিয়েছে। শিল্প-কারাখানা ও জরুরি সেবা বাদে সবই বন্ধ। গত প্রায় দেড় বছরে সীমিত বা কঠোর যে মাত্রার লকডাউনই দেওয়া হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যতম পরিবহন শ্রমিকরা। তাঁদের জন্য এখন পর্যন্ত পৃথক উদ্যোগ নেয়নি সরকার। সম্প্রতি দেওয়া ওই বরাদ্দেও তাঁদের জন্য আলাদা কিছু থাকার কথা নেই।

যদিও গত সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পরিবহন শ্রমিকদের জন্য সরকারিভাবে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিবহন খাতে শ্রমিকের সংখ্যা কত এর কোনো হিসাব সরকারি ও বেসরকারি কারো কাছে নেই। লকডাউনের মধ্যে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে উদ্যোগ না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ আছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ২৭ জুন দুটি লটে বরাদ্দ দিয়েছে যথাক্রমে ১১ কোটি ৯৩ লাখ ও ১১ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। জেলাওয়ারি ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ গেছে। দুটি বরাদ্দপত্রে একই ধরনের তিনটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দপত্রগুলোতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকরা ইউনিয়নওয়ারি বরাদ্দ দেবেন। কর্মহীন ও দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে এসব সহায়তা বিতরণ হবে। ৩৩৩ নম্বরে মানবিক সহায়তার আবেদন এলে চাল, ডাল, লবণ, তেল, আলু ইত্যাদি দিতে হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের জন্য পৃথক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র স্বীকার করেছে। তারা বলছে, মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী পরিবহন শ্রমিকদের বিষয়টি উল্লেখ করার পর মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের হাতে টাকা নেই। নতুন বাজেটে টাকা এলেও পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা না থাকায় সেটা কিভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তা নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, সর্বশেষ বরাদ্দ থেকে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) সবাই টাকা তুলে রেখেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য কার্যক্রম শুরু হবে। এখনো (গত শুক্রবার) ওইভাবে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। রবি-সোমবার থেকে কিছু কিছু শুরু হবে। এর বাইরে ৩৩৩ নম্বরে কেউ ফোন করলে যাচাই করে আনুমানিক ৫০০ টাকা মূল্যের খাবার পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানায়, বরাদ্দপত্রে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য পৃথকভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে একাধিক ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানিয়েছেন, লকডাউনসংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করতেই তাঁদের হিমশিম অবস্থা। ত্রাণের দিকে নজর দিতে সময় লাগছে। তবে ৩৩৩ নম্বরে ফোন এলে যাচাই করে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন।

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র জানায়, বিদায়ি অর্থবছর ও নতুন অর্থবছরের মধ্যের এই সময়টায় মন্ত্রণালয়ের হাতে কোনো টাকা নেই। যা ছিল তা গত ২৭ জুন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই বরাদ্দে পরিবহন শ্রমিকদের বিষয়ে লিখিতভাবে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে মৌখিকভাবে ডিসিদের বলা হয়েছে, পরিবহন শ্রমিকরা যেন অগ্রাধিকার পান। কিন্তু তিনটি বিভাগের একাধিক জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে কোনো নির্দেশনা ডিসিদের কাছে যায়নি বলে জানা গেছে। তবে দু-একটি জেলায় কিছু কিছু ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিসিদের কাছে পর্যাপ্ত বরাদ্দ আছে। এর পরও যখন যাদের কাছ থেকে চাহিদা পাচ্ছি, তাৎক্ষণিকভাবে নতুন বরাদ্দ দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘অর্থ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল (আজ রবিবার) চাল বরাদ্দের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হবে। আশা করি ত্রাণের ঘাটতি হবে না।’

পরিবহন শ্রমিকের সংখ্যা কত : সারা দেশে পরিবহন শ্রমিকের প্রকৃত হিসাব নেই। এখন কেউ বলে পরিবহন শ্রমিক ৭০ লাখ, কারো মতে ৫০ লাখ বা ১০-২০ লাখ।

বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন মোহাম্মদ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রমিকের সংখ্যা সঠিকভাবে বলা সম্ভব না। সরকার প্রণোদনা দেওয়ার আগে সঠিক তালিকা তৈরি হওয়া দরকার। তা না হলে প্রকৃত পরিবহন শ্রমিকরা আর্থিক প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হবেন।’

পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরাই পরিবহন শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এসব পরিবহনে চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপার—তিন ধরনের পরিবহন শ্রমিক আছেন। দেশে মোট বাসের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩৮২। ট্রাক, পিকআপ, মিনিট্রাক মিলিয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য যানবাহনের সংখ্যা তিন লাখ ৫১ হাজার। বাস ও পণ্য পরিবহনের যানবাহনগুলোতে প্রতিটিতে তিনজন ধরলে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের ভাষায়, পরিবহন শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ।



সাতদিনের সেরা