kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

অনলাইন কেনাকাটায় আগে পণ্য পরে মূল্য

নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনলাইন কেনাকাটায় আগে পণ্য পরে মূল্য

ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা ঠেকাতে ই-ভ্যালিসহ অনলাইন কেনাকাটা ব্যবসাসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আগে পণ্য সরবরাহ করে পরে দাম নিতে হবে। প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ই-কমার্স বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বহুপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। তবে ভোক্তার চূড়ান্ত দায় নিয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা কার্যকর করবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ই-ভ্যালির ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি পরিদর্শন প্রতিবেদন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান, ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার প্রমুখ। বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান জানান, ই-কমার্স লেনদেনে ভোক্তা পণ্য বুঝে পাওয়ার প্রাপ্তি মেসেজ দিলে বিক্রেতা মূল্য বুঝে পাবেন। আর এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গেটওয়ের মাধ্যমে এই অর্থ লেনদেন হবে।

ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, তারা যেন কোনো পণ্যের দাম নগদ পরিশোধ না করে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ বা নগদের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন। ভোক্তা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থে এই খাতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়বদ্ধতায় আনতে কোনো ধরনের জামানত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়-ব্যয়ের বৈষম্য ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ই-ভ্যালির সম্পদের চেয়ে দায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। এ বিষয়ে আলোচনা হলেও বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পেমেন্ট মনিটরিং করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শমী কায়সার বলেন, ‘ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই খাতে কোনো ধরনের প্রতারণা হোক তা আমরা চাই না। এ জন্য দ্রুত একটি এসওপি করতে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছি। তাহলে ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত হবে। ব্যবসার প্রতিযোগিতায়ও ভারসাম্য থাকবে।’

বৈঠকে ই-ক্যাবের পক্ষে দুটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। তিনি বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় একটি নীতিমালা এবং এসক্রো সার্ভিসের দাবি জানিয়েছি। এই দুটি দাবি নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তারা নিরাপত্তা পাবে।

ই-ভ্যালি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিপুল ছাড় দিয়ে লোকসানে পণ্য বিক্রি করছে। যে কারণে দেশের ই-কমার্স ব্যবসায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ভালো ও সৎ ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং ভবিষ্যতে এই খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

এই বিষয়ে ই-ভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘গণমাধ্যম সূত্রে বিষয়টি আমরা জেনেছি। শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি এসওপি সার্ভিস ডেভেলপ করা হবে, যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেওয়া না হয়। যেকোনো রেগুলেটরি থেকে আসা সিদ্ধান্ত শুধু ই-ভ্যালি নয়, সবার জন্যই প্রযোজ্য হবে।’