kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

জাপার প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

ভোটে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন প্রার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাপার প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় ভাবমূর্তির সংকটে পড়েছে জাতীয় পার্টি। কুমিল্লা-৫ ও ঢাকা-১৪ আসনে লাঙলের প্রার্থীরা একক সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চরম ক্ষুব্ধ। এরই মধ্যে ওই দুই প্রার্থীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বরাবরই বলে আসছেন যে প্রতিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই নিজেদের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এমন ঘটনা জাপা চেয়ারম্যানের বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে। দলের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ অবস্থায় প্রার্থীদের এমন আচরণে চরমভাবে ক্ষুব্ধ জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কুমিল্লা-৫ ও ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে পার্টি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে কুমিল্লা-৫ আসনে জাপা মনোনয়ন দেয় জসিম উদ্দিনকে। ওই আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। জাপা প্রার্থী এর আগেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেম খান। আর এ ঘটনায় ১৫ জুন জসিম উদ্দিনকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ঢাকা-১৪ আসনে জাপার প্রার্থী ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক। লাঙলের এই প্রার্থীও ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোয় এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগা খান মিন্টু। ক্ষুব্ধ জাপার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গতকাল মোস্তাকুর রহমান মোস্তাককেও দল থেকে বহিষ্কার করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে, জাপার প্রার্থীরা প্রতিপক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো অর্থিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। এগুলো গুজব। দল আমাকে মনোনয়ন দিলেও কোনো সহযোগিতা করছে না। বিষয়টি আমি শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছি। আর দল আমাকে এভাবে বহিষ্কার করতে পারে না। আগে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়ে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত একেবারেই স্বৈরতান্ত্রিক।’

জাপার বহিষ্কৃত এই নেতা আরো বলেন, ‘প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো নির্বাচন বিধি মোতাবেক হচ্ছে না। ভোটার আসুক না আসুক আওয়ামী লীগের প্রার্থীই জিতে যান। আর এ বিষয় নিয়ে জাতীয় পার্টি একটি সংবাদ সম্মেলনও করে না। কোনো বিবৃতিও দেয় না। কী কারণে নির্বাচন করব? জাতীয় পার্টির উচিত ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন বর্জন করা।’