kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

এখন বেশি দম আর পায়ের জোরে আয়

মেহেদী হাসান   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখন বেশি দম আর পায়ের জোরে আয়

জার্সি নম্বর ১৭০১৪৩। শরীরে ঘামে ভেজা রং হারানো পোলো শার্ট। রোদে পোড়া মুখ, খোঁচা খোঁচা দাড়ি। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তিন চাকার বাহন রিকশার পেডালে পা আর হ্যান্ডেলে হাত রেখে নতুন এক কষ্টের দুনিয়ায় এই যুবক। করোনার এই দুঃসময়ে নিজেকে লুকাতে গল্পের এই ‘নায়ক’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। আগে প্রাইভেট কারের চালক হিসেবে চষে বেড়াতেন রাজধানীর অলিগলি। বেতন ছিল ১৭ হাজার। সঙ্গে প্রতিদিন খাওয়া খরচ মিলত ১০০ টাকা। আর এখন যত বেশি দম, পায়ে যত জোর, তত আয়।

জামালপুর থেকে কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন প্রাইভেট কারের চালক হিসেবে চাকরির খোঁজে। গাড়ির মালিক তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলেন। ট্রায়াল হিসেবে গাড়ি চালাতেও দিলেন। ফের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গাড়ির মালিক তাঁকে জানান, আরো কিছুদিন দেখবেন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই তাঁর চাকরিটা হতে পারে।

এবার চাকরি না পেয়ে ওই যুবক আর বাড়ি ফিরে যাননি। জীবিকার তাগিদে রিকশা চালানো শুরু করেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। জামালপুরে মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানকে জানিয়েছেন, গাড়ি চালানোর চাকরি ঠিকই পেয়েছেন। তবে বদলি চাকরি, তাই বেতন কম।

রাজধানীতে যে তিনি রিকশা চালাচ্ছেন তা তাঁর পরিবার জানে না।

বললেন, ‘চুরি তো আর করতে পারি না, এখন ছোট কাজ করছি। জীবনে কোনো দিন রিকশা চালাইনি। করোনার কারণে এখন এই কষ্টের কাজ করতে হচ্ছে। তবু ভালো আছি।’

কথা বলতে বলতে জানা যায়, ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন ঢাকায়। ২০১১ সাল থেকে প্রাইভেট কার চালানো শুরু করেন। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন। ওই কর্মকর্তা গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো কাজ হারান তিনি।

এরপর করোনার আগে চাকরি নেন এক প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর। কয়েক মাস ভালোই চলছিল। কিন্তু করোনার দুঃসময়ে ওই প্রকৌশলীর কাজ কমে যায়। এক পর্যায়ে খরচ কমাতে চালককে বাদ দেওয়া হয়। আর এতে আবারও চাকরি হারান তিনি।

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরও ঢাকায় কাজের খোঁজে ছিলেন তিনি। কয়েক মাস বসে থেকে ঢাকায় এসে এখন রিকশা চালাচ্ছেন। আগে প্রাইভেট কার চালানোর সময় থাকতেন মালিকের গ্যারেজে। মাসে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা তিনি খরচ করতেন পরিবারের পেছনে। আর এখন থাকেন কুড়িল এলাকায় রিকশার গ্যারেজে আরো ৫০ জন রিকশাচালকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, রিকশা গ্যারেজের মেসে খাবারের মান খারাপ। তবু খরচ বাঁচাতে দিনে দুই বেলা খাচ্ছেন সেখানে।

এখন বাড়তি ভাড়া পেলেও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাইরে যান না তিনি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর ঢাকায় আছি। মালিবাগ, মৌচাকে পরিচিতজনরা আছে। সেখানে রিকশা নিয়ে গেলে কারো না কারো চোখে পড়ে যাব। আবার যেদিন গাড়ি চালানোর চাকরি পাব, তখন পুরো রাজধানী ঘুরব।’



সাতদিনের সেরা