kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মওদুদের এলাকায় তাঁর উত্তরসূরি কে

এনাম আবেদীন   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মওদুদের এলাকায় তাঁর উত্তরসূরি কে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রয়াত হয়েছেন তিন মাসেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু রাজনীতিতে তাঁর জায়গায় আসতে স্ত্রী হাসনা মওদুদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও নোয়াখালীর স্থানীয় কয়েকজন নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কে ধরবেন বিএনপির হাল, সংসদ সদস্য পদে ভবিষ্যতে কে পাবেন মনোনয়ন সে আলোচনা চলছে দলটিতে।

নোয়াখালীর কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনে মোট পাঁচবার এমপি ছিলেন মওদুদ। ‘ভিআইপি আসন’ বলে পরিচিত ওই নির্বাচনী এলাকার বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো মওদুদের। নানা রোগে ভোগার পর গত ১৬ মার্চ ৮১ বছর বয়সে মারা যান বিএনপির এই নেতা।

তবে জীবিত থাকতে মওদুদ আহমদের সঙ্গে দলের অন্য কোনো নেতার প্রতিযোগিতা করার সাহস না হলেও এখন অনেকেই তাঁর নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতি করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় নানামুখী তদবির ও লবিংয়ের পাশাপাশি এলাকায়ও নানামুখী কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা চলছে ওই নেতাদের। আর এ কারণেই সাম্প্রতিককালে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গতি পেয়েছে।

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, মওদুদ আহমদ মারা যাওয়ায় তাঁর আসনে জায়গা করার জন্য অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কার জায়গা হবে তা বিএনপির হাইকমান্ড জানে।

নোয়াখালী অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান এবং দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঢাকায় বিএনপির প্রভাবশালী এবং নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জের সক্রিয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, মূলত গুরুত্বপূর্ণ দুজন নেতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে মওদুদের আসনের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ। তাঁদের মধ্যে একজন মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ; যিনি তাঁর রাজনীতির উত্তরাধিকারী হতে চাইছেন। অন্যজন হলেন ব্যবসায়ী নেতা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। যিনি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করে এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছেন। দলের হাইকমান্ডেরও এখন সুনজরে আছেন তিনি। মওদুদ আহমদের আগ্রহেই ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন ফখরুল। জানা গেছে, খুব শিগগিরই দলীয় যেকোনো পদে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তাঁদের বাইরে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসিরও নজর রয়েছে ওই আসনের দিকে। তৎপর হয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক নেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদও।

জেলা নেতা অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মওদুদ সাহেব এলাকার জননন্দিত নেতা ছিলেন। সেদিক থেকে তাঁর স্ত্রী হাসনা মওদুদ আসার চিন্তা করতেই পারেন। কিন্তু জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটুকু তা জানি না।’ আগ্রহী অন্য নেতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তরুণদের মধ্যে কিছুটা জনপ্রিয়তা রয়েছে আবেদের। তবে ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম এলাকার অনেক লোককে চাকরি দিয়েছেন। দুঃসময়ে তিনি অনেকের পাশে থাকেন। সেদিক থেকে তাঁর সুনাম সবচেয়ে বেশি।’

জানতে চাইলে ফখরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মওদুদ আহমদ আমাদের কাছে সম্মানিত নেতা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে তুলনা করা যথাযথ মনে করি না। তবে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের তৃণমূল নেতাদের মতামত কী সেটা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির হাইকমান্ড যাঁকেই ওই আসনের জন্য মনোনীত করবে আমি তাঁর নেতৃত্বেই রাজনীতি করব।’

এদিকে, মওদুদ আহমদের স্ত্রী হিসেবে হাসনা মওদুদের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি ও সম্মান বিএনপির রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ তথা জনগণের দোরগোড়ায় যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর রয়েছে কি-না সে নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা রয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী হাসনা মওদুদ জাতীয় পার্টির সরকারের সময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নোয়াখালীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কতটা সে নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

তবে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে হাসনা মওদুদ বেশ জোর দিয়ে জানান, প্রয়াত মওদুদ আহমদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে যেতে তিনি রাজনীতিতে থাকবেন। গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমি মন ঠিক করেছি এবং অপেক্ষা করছি। স্বাস্থ্যও আমার ভালো আছে। নোয়াখালী-৫ আসনের জনগণের সেবা করার জন্য আমি রাজনীতি করব, কোনো ফায়দা লোটার জন্য নয়।’

‘কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জের জনগণ আমার পাশেই আছে’ এমন দাবি করে  হাসনা মওদুদ বলেন, করোনা পরিস্থিতি ভালোর দিকে গেলে আমিও তাদের পাশে দাঁড়াব।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সিকদার জানান, স্থানীয়ভাবে হাসনা মওদুদ এবং ফখরুল ইসলাম দুজনের নামই আলোচনায় আছে। কিন্তু হাসনা মওদুদ আলোচনায় শুধু মওদুদ সাহেবের স্ত্রী হিসেবে। জনসমর্থনের দিক থেকে ফখরুল ইসলাম এগিয়ে রয়েছেন। তিনি বেশি গণমুখী।’

কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম মনে করেন, হাসনা মওদুদ শিক্ষিত ও অত্যন্ত আধুনিক মানসিকতার হলেও বর্তমান কূটকৌশলের রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবেন বলে মনে হয় না। তা ছাড়া তাঁর বয়স হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আর্থিক সংগতি ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতা ফখরুল ইসলাম বর্তমান সময়ের জন্য ফিট। বিএনপির পাশাপাশি শরিক দলগুলোর মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যদি বলেন তাহলে ফিট গোলাম হায়দার বিএসসি।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা লিটন চৌধুরী এ বিষয়ে কৌশলী জবাব দিয়ে বলেন, ‘বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম এখন চলছে জেলার নেতৃত্বে। তবে হাইকমান্ড যাঁকেই মনোনয়ন দেয় আমরা তাঁর পক্ষে কাজ করব।’