kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

নির্বাচনী সহিংসতা

কাঁঠালিয়ায় কলেজছাত্র নিহত

শিবচরে আহত শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাঁঠালিয়ায় কলেজছাত্র নিহত

প্রতীকী ছবি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় প্রথম মৃত্যুর সাক্ষী হলো ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া। উপজেলার আমুয়া ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত দুই সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক কলেজছাত্র নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই জেলার নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী সদস্য পদপ্রার্থী এবং তাঁর কর্মীদের হামলায় পরাজিত প্রার্থীর আট সমর্থক আহত হয়েছেন। মাদারীপুরের শিবচরের মাদবরের চর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার প্রথম ধাপে দেশের ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কাঁঠালিয়ায় নিহত আরিফ হোসেন (২০) ছোনাউটা গ্রামের শিক্ষক শাহ আলম আকন লাল মিয়ার ছেলে এবং বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার আমুয়া ইউপি নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন মজিবর রহমান। মঙ্গলবার রাতে বিজয়ী মজিবরের সমর্থকরা ছোনাউটা কেরাত আলী দাখিল মাদরাসাসংলগ্ন এলাকায় পিকনিকের আয়োজন করেন। একই ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য পদপ্রার্থী ফারুক মিয়ার কর্মী আলী হোসেন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মজিবরের সমর্থকরা তাঁকে আটক করে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে ফারুকের লোকজন আলী হোসেনকে ছাড়াতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আহত হন অন্তত ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত আরিফ হোসেন, আবদুল মালেক (৬০), আলিম সিকদার (৬০), সরিফুল ইসলাম (২৬), ইব্রাহীম আকন (২৫), শাহ আলম আকন (৬০), শাহনাজ পারভীন (৫০) ও সেহরাফ হোসেন আকনকে (৫৫) আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরিফকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

কাঁঠালিয়া থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় জানান, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। আরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নলছিটির রানাপাশার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাতলা বাজার এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলের ঘটনায় হামলাকারীরা একটি দোকান ভাঙচুর করেন। আহতরা জানান, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাইদুল ইসলাম মন্টু ও রজ্জব আলী খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটে মন্টু বিজয়ী হন। পরাজিত রজ্জব আলীর পক্ষে প্রচার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জলিল সিকদারের দোকান ভাঙচুর করেন মন্টু ও তাঁর কর্মীরা। এতে বাধা দিলে রশিদ সিকদার (৯০), তাঁর ছেলে নাসির সিকদার (৪৫), মাকসুদা (৪৫), মুক্তা (২১), মুন্নি (১৮) ও বাদুল মোল্লাকে (২১) পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিবচরে নিহত আবু বকর ফকির (৪৫) উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের ডাইয়ার চর গ্রামের খালেক ফকিরের ছেলে এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি সোমবার ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী মাদবরের চরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুল সরদারের সমর্থক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগের দিন রবিবার রাতে মাদবরের চরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী ইউসুফ সরদারের সমর্থকরা সাড়ে সতেরো রশি এলাকায় প্রচারে যান। সেখানে তাঁদের বাধা দেন প্রতিপক্ষ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুলের লোকজন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইউসুফের সমর্থকরা আবু বকরকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিবচর থানায় মামলা করা হয়েছে।

শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন, সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র ঝালকাঠি ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি।]



সাতদিনের সেরা