kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মধুখালীতেও ছাত্রলীগের কমিটিতে ছাত্রদল নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধুখালীতেও ছাত্রলীগের কমিটিতে ছাত্রদল নেতা!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এবার ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজমুল হোসেনকে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ছাত্রলীগ নেতারা বলেছেন, স্থানীয়ভাবে সুপারিশের ভিত্তিতে নাজমুলকে পদ দেওয়া হয়েছে। আর ছাত্রদলের নেতারা বলেছেন, নাজমুল রায়পুর ইউনিয়নের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

সম্প্রতি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদ মিছিলও হয়েছে। কিন্তু এবার অভিযোগ উঠেছে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়েও।

জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজমুল হোসেনকে গত ১২ জুন ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মধুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে রবীন মোল্লাকে উপজেলা সভাপতি ও ইনজামামুল আলম অনীককে সাধারণ সম্পাদক এবং মো. নাজমুল হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ সম্পর্কে রবীন মোল্লা বলেন, ‘নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। সেই হিসেবেই পদ পেয়েছেন। নাজমুল ছাত্রদল করতেন বলে অনেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। তবে খোঁজখবর নিয়ে আমরা কোনো সত্যতা পাইনি।’

এদিকে মধুখালী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, ‘তিন মাস আগে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগের সব কমিটি বাতিল করা হয়েছে। তবে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটিতে নাজমুল হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন বলে আমি শুনেছি।’

এদিকে পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ নিশ্চিত করে জানান, নাজমুল হোসেন রায়পুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। করোনার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি।

মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু বলেন, ‘নাজমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতি করত কি না তা আমার জানা নেই। তবে সে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান বলেন, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই নাজমুল হোসেনকে ছাত্রলীগের পদ দেওয়া হয়েছে। নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জানিয়ে সুপারিশ করায় তাঁকে পদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তার শেখ বলেন, ‘নাজমুল হোসেনের বাড়ি ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডে। দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র পেয়েই তাকে ছাত্রলীগের পদ দিতে আমি সুপারিশ করেছি।’

ছাত্রদল করার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. নাজমুল হোসেনের বলেন, ‘আমি কখনো ছাত্রদলের রাজনীতি করিনি। আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, সদ্যোঘাষিত ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দেওয়া হয় মোহাম্মদ রায়হান রনিকে। অভিযুক্ত রায়হান রনি আগে থেকেই পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে তাঁকে অব্যাহতি দেয় ছাত্রলীগ। অন্যদিকে জরুরি সভা করে রনিকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল। যদিও নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী হিসেবেই দাবি করেছেন রনি।