kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

টিআইবি আয়োজিত আলোচনায় বক্তারা

সাংবাদিকতায় বেড়েছে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাংবাদিকতায় বেড়েছে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ

একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা থেকেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ বেড়েছে। এই চাপ মোকাবেলা করে সৎসাহস ও নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখা উচিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তাঁরা। একই সঙ্গে বর্তমানে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্র সংকুচিত বলে মত গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের।

গতকাল মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘করোনাকালে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা এবং ‘কভিড-১৯ বিষয়ক বিশেষ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার-২০২০’ ঘোষণা উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনায় উঠে আসে এসব তথ্য।

টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি প্রগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

টিআইবির প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের বেশির ভাগ গণমাধ্যমে দক্ষ সংবাদকর্মী তৈরি হওয়ার পরিবর্তে ‘স্পাইরাল অব সাইলেন্স’ তত্ত্বের স্পাইরাল ইফেক্ট পড়েছে। ফলে কয়েক বছরে পেশার প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল অনেক গণমাধ্যমকর্মী স্বেচ্ছায় এবং অনেক ক্ষেত্রে নানামুখী চাপ ও জীবন-জীবিকার তাগিদে পেশার পরিবর্তন করেছেন, যা দীর্ঘ মেয়াদে সাংবাদিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। করোনার প্রভাবে ভেঙে পড়া অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু সাংবাদিকতা  তথা গণমাধ্যমের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।

সংস্থাটি বলছে, গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত একুশে পদকপ্রাপ্ত একজন বরেণ্য সাংবাদিক একটি জাতীয় দৈনিকের জন্মলগ্ন থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। করোনায় উদ্ভূত আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে তাঁকে অবসর নিতে বলা হয়েছে। এ ধরনের দৃষ্টান্ত একজন মেধাবী তরুণকে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণে নিরুৎসাহিত করবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা কতটা সুশাসনের মধ্যে সাংবাদিকতা চর্চা করছেন এটি একটি বড় প্রশ্ন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকটা চাপের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের নীতি-নৈতিকতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

বৈশাখী টেলিভিশনের প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট জুলফিকার আলী মানিক বলেন, ‘সাংবাদিকতায় অবশ্যই নীতি-নৈতিকতা থাকা উচিত। টাকার বিনিময়ে সংবাদের তথ্য সংগ্রহ কিংবা না বলে ফাইল চুরি করার বিরোধী আমি। এটা সাংবাদিকতার নীতিকেও সমর্থন করে না। নীতির বাইরে না গিয়েও অনেক ভালো সাংবাদিকতা করা সম্ভব।’

এমআরডিআইয়ের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সহায়তা ডেস্কের প্রধান বদরুদ্দোজা বাবু বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের অনেক প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়। তবে আমরাও ঘটনার পেছনের গল্প খুঁজি না। আমরা শুধু দুর্নীতি হয়েছে এটা বলছি। কেন দুর্নীতি হলো ও দুর্নীতির জন্য কারা কারা দায়ী—এমন বিশ্লেষণমূলক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এখন দেখছি না।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আফসান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. গীতিআরা নাসরিন, হাসিবুর রহমান, তালাত মামুন, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, মানস ঘোষ, শাকিল আহমেদ, সাজ্জাদ আলম খান তপু, মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, মবিনুল ইসলাম মবিন, ওয়াহিদ মালেক, মুকতাবিস উন নুর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের আবু রায়হান তানিন। তিনি ‘চট্টগ্রামে করোনা রোগী আইসিইউ পায় না, ১২ হাসপাতালের গল্প পুরোটাই ফাঁকি!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের জন্য এই পুরস্কার পান। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পান সারাবাংলা ডটনেটের সৈকত ভৌমিক। তিনি ‘করোনা পরীক্ষা নিয়ে জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রতারণার জাল’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির জন্য এই পুরস্কার পান। একাত্তর টেলিভিশনের মুফতি পারভেজ নাদির রেজা ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজারে বিষাক্ত মিথানল!’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির জন্য পুরস্কার পান।