kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

চেয়ারম্যান পদে ১৪৮ ইউপিতে নৌকার জয়

স্বতন্ত্র ৪৯, জেপি ৩, জাপা ৩, ইসলামী আন্দোলন ১টিতে জয়ী, ভোট পড়ার হার ৬৪.৭৩%

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




চেয়ারম্যান পদে ১৪৮ ইউপিতে নৌকার জয়

বিএনপিবিহীন প্রথম ধাপের ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ১৪৮ জন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৮ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১২০) বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) তিনজন, জাতীয় পার্টি—জেপির তিনজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন ও স্বতন্ত্র ৪৯ জন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্রদের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং দলের সিদ্ধান্তেই স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ কাউকেই দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে দেয়নি। সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী স্বতন্ত্রদের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও রয়েছেন।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত এই ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট দিয়েছেন ৬৪.৭৩ শতাংশ ভোটার। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোট পড়েছে ৬৩.৪৬ শতাংশ। আর ব্যালটে ভোট পড়েছে ৬৪.৮৩ শতাংশ। ২০৪ ইউপির মধ্যে ১৮৪টিতে ব্যালটে আর ২০টিতে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের এই নির্বাচনে ইভিএম ও ব্যালট পেপারে প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান কমেছে। আগের নির্বাচনগুলোতে ইভিএমে প্রাপ্ত ভোটের হার ব্যালটের তুলনায় কম ছিল। নির্বাচন কমিশন এর কারণ হিসেবে বলে আসছিল, ইভিএমে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় প্রাপ্ত ভোটের হার ব্যালটের তুলনায় কম হয়। তবে ইভিএমে ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়াসহ নানা অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।

ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই নির্বাচনে সবচেয়ে কম ৪৯.৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে ঝালকাঠি সদরের বিনয়কাঠি ইউপিতে। এখানে ভোটগ্রহণ হয় ইভিএমে। ইভিএমে সবচেয়ে বেশি ৭১.৫২ শতাংশ ভোট পড়ে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পাংগাশিয়ায়। আর ব্যালটে সবচেয়ে বেশি ৮২.৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিবচর ইউপিতে।

২০৪ ইউপির মধ্যে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ১৭৩টিতে ভোটের আয়োজন করা হয়। এই ছয় জেলায় ব্যালট পেপারে ভোট পড়ে ৬৩.৭৩ শতাংশ। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৬০.৯৪ শতাংশ, পিরোজপুরে ৬৫.১৯ শতাংশ, ভোলায় ৬২.১০ শতাংশ, ঝালকাঠিতে ৬০.৬২ শতাংশ, বরগুনায় ৬৮.০৭ শতাংশ এবং পটুয়াখালীতে ৬৫.৫২ শতাংশ। সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগের ইউপিগুলোতে ৬৩.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। 

রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার একটি ইউপি কল্যাণীতে ব্যালটে ভোট হয়। এই ইউপিতে ভোট পড়ে ৭৭.৭৪ শতাংশ। মাদারীপুরের শিবচরের ১৩ ইউপিতে ভোট পড়ে ৭৪.৯৮ শতাংশ। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার একটি ইউপি তালোড়ায় ৮০.৪৯ শতাংশ, নরসিংদীর পলাশের দুটি ইউপিতে ৬৮.৮৬ শতাংশ ভোট পড়ে। গাজীপুরের চারটি ইউপিতে ব্যালটে ভোট পড়ে ৬২.৯৪ শতাংশ। সুনামগঞ্জে দুটি ইউপিতে ব্যালটে ভোট পড়ে ৬৭.৮৬ শতাংশ। লক্ষ্মীপুরের দুটি ইউপিতে ভোট পড়ে ৬২.৯৪ শতাংশ।

এ ছাড়া ২৮টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইউপিগুলো হলো—পটুয়াখালীর বাউফলের কালিশূরী ও কালাইয়া, বরিশালের বাকেরগঞ্জের দুধল, উজিরপুরের শোলক, মুলাদীর মুলাদী, গৌরনদীর বাটাজোড়, খানজাপুর, বার্থি, চাদশী, মাহিলারা ও নলচিড়া, বানারীপাড়ার বিশারকান্দি, ইলুহার, সালিয়াবাকপুর, বানারীপাড়া ও উদয়কাঠি, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী, ঝালকাঠি সদরের কেওড়া, নলছিটির নাচনমহল, রাজাপুরের গালুয়া, ভোলার বোরহানউদ্দিনের গঙ্গাপুর, চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ, চলকলমি, হাজারীগঞ্জ, এওয়াজপুর ও জাহানপুর এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমুলিয়া ও মোক্তারপুর।