kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

সবিশেষ

সড়ক দুর্ঘটনা কমাবে ‘টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক দুর্ঘটনা কমাবে ‘টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট’

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রাকের তুলনায় ইউরোপের রাজপথের ট্রাক অনেক বড়। শুধু চালকের পক্ষে তাই চারপাশে নজর রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য আধুনিক সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানোর চেষ্টা চলছে। ‘টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামের এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সড়কে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব। দুর্ঘটনা নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন মার্সেল স্মিট। তিনি ৩০ বছর ধরে ট্রাক চালাচ্ছেন। বাঁক নেওয়ার সময় সাইকেলের সঙ্গে ধাক্কার আশঙ্কা তাঁকে সব সময় তাড়া করে বেড়ায়। কারণ ‘ব্লাইন্ড স্পট’ তাঁর চোখের আড়ালে থাকে। মার্সেল জানান, যেকোনো সময় এমন অঘটন ঘটতে পারে। তাঁর মতে, ‘সাইকেলচালক লাল ট্রাফিক লাইট অগ্রাহ্য করে ট্রাকের সামনে এসে পড়লে এবং ধাক্কা খেলে সেটা ট্রাকচালকের দোষ নয়। মৃত্যু না হয়ে তার গুরুতর আঘাত লাগলেও ট্রাকচালক হিসেবে কী করা উচিত? এমনটা ঘটলে আমি আর কখনো ট্রাক চালাতে পারব কি না, আমি তা জানি না।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ট্রাকচালক বাঁক নেওয়ার সময় দেখতে না পাওয়ার কারণে জার্মানিতে  প্রতিবছর প্রায় ২৮ জন সাইকেলচালক মারা যায়। কিন্তু সাইকেলচালকদের এত ঘন ঘন না দেখতে পাওয়ার কারণ কী? ট্রাকচালকেরও তো রেয়ার ভিউ আয়না রয়েছে! কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই আয়না যথেষ্ট নয়। কারণ চালক ওপর থেকে যেটুকু দেখতে পারেন, তা আসলে সীমিত। ট্রাকচালকের রেয়ার ভিউ আয়নায় পেছনের কিছু অংশ দেখা গেলেও একটি অংশ চোখের আড়ালে থেকে যায়। সেই অংশটিকেই ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বলা হয়। সেখানে সাইকেলচালক থাকলে ট্রাকচালক তাকে দেখতে পান না।

সেই ঘাটতি মেটাতেই ‘টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামের সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি কাজে লাগে। ‘ব্লাইন্ড স্পট’-এ কোনো বাধা টের পেলে এই প্রণালী সিগন্যাল বা সংকেত পাঠায়। চালক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে মার্সেল স্মিট বলেন, ‘টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট সত্যি দারুণ এক উদ্ভাবন। প্রায়ই সেটি শব্দ করে। কিছু না থাকলেও কোনো বাধা দেখলেই সেটিকে সাইকেলচালক মনে করে। এতে ক্ষতি নেই বটে; কিন্তু শব্দ শুনলে বারবার তাকিয়ে দেখতে হয়। সত্যি বিপদ দেখলে সিস্টেম নিজে থেকেই ইমার্জেন্সি ব্রেক করে।’

মার্সেল স্মিট এমন্স নামের শিপিং কম্পানিতে কাজ করেন। অনেক বছর আগেই কম্পানির ট্রাকগুলোতে টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট বসানো হয়েছে। কম্পানির প্রধান ৮৫ শতাংশ ট্রাকে এই সেন্সরভিত্তিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করেছেন।  প্রতিটি দুর্ঘটনার নাটকীয় পরিণতির কারণে ট্রাকে সিকিউরিটি সিস্টেম লাগানো কম্পানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম্পানির প্রধান মিশায়েল নেচ বলেন, ‘বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে এমনটা ভেবে আমরা এই কাজ করিনি। তত দিন অপেক্ষা করলেও পারতাম। নিজেদের স্বার্থে, কর্মীদের জন্য, নিজস্ব নিরাপত্তা, ট্রাকের নিরাপত্তা এবং পথে বাকিদের নিরাপত্তার খাতিরে আমরা সেটা করি।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী আগামী বছর থেকে সব ট্রাকে ‘টার্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ থাকতে হবে। যেসব ট্রাক ঘন ঘন ইউরোপে মালপত্র সরবরাহ করে, সেগুলোর মধ্যেও সর্বাধুনিক নিরাপত্তা প্রণালী থাকতে হবে।  ট্রান্স লজিস্টিক নামের ইউক্রেনের এক শিপিং কম্পানি কয়েক বছর আগেই ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম লাগানো ১০টি ট্রাক কিনেছে। বিশাল দামের কারণে সেই সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। কম্পানির প্রধান আন্দ্রিই লেপিশভ বলেন, ‘ট্রাকপ্রতি এই সিস্টেমের দাম প্রায় দেড় হাজার ইউরো। তবে সব কিছু মিলিয়ে খরচ কম নয়। শুধু ট্রাকের দাম এক লাখ ইউরো, বাকি ফিচারগুলোর জন্য ৪০ হাজার ইউরো গুনতে হয়। ফলে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সামর্থ্য আছে কি না, সে কথা আগেই ভাবতে হয়।’

ট্রাকচালকরা বলেন, যত বেশি নিরাপত্তা অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকবে, ততই ভালো। ওলেক্সান্ডার ইশচেংকো তাঁদেরই একজন। তিনি মনে করেন, ‘প্রতিটি ট্রাকে ব্লাইন্ড স্পটের জন্য সেন্সর থাকা উচিত। লেন কিপিং অ্যাসিস্ট ও ইমার্জেন্সি ব্রেক সিস্টেম সব গাড়িতেই থাকা উচিত। এসব বাধ্যতামূলক করতে পারলে অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।



সাতদিনের সেরা