kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

কার্যকরে তৎপরতা কম তবু বাড়ছে ‘লকডাউন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কার্যকরে তৎপরতা কম তবু বাড়ছে ‘লকডাউন’

৮, ২২, ২৮। খুলনা বিভাগে গত শুক্রবার থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগামী সংখ্যাক্রমই বলে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতটা খারাপে গড়াচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মতো দেশের উত্তরাঞ্চল থেকেও আসছে ক্রমবর্ধমান মৃত্যু ও আক্রান্তের খবর। সীমান্তবর্তী এ দুই অঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে এলাকা, শহর বা জেলাভিত্তিক কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউন দেওয়া হলেও তা কার্যকরে তেমন তৎপরতা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ চলাচল সীমিত করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উদাসীনতাও চোখে পড়ার মতো।

এমন পরিস্থিতিতেও গতকাল থেকে কয়েকটি জেলায় নতুন করে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগের দুই জেলা রাজবাড়ী ও ফরিদপুরেও ঘোষণা করা হলো লকডাউন। 

খুলনা বিভাগে গতকালের ২৮ মৃত্যু এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যাও। বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও যশোরের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। গতকাল এ তিন জেলায় মৃতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭, ৪ ও ৪। কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৬৪ জন। ঝিনাইদহ ও যশোরে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৯০ ও ৭৩। এর মধ্যে ঝিনাইদহে শনাক্তের হার সর্বোচ্চ, ৫৪.৮৭ শতাংশ। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা সার্বিক পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেছেন।  

রোগীর চাপ সামলাতে খুলনায় এরই মধ্যে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২০ শয্যার স্থলে ১৩০ শয্যা এবং খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ৭০টি শয্যা তৈরি করা হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না বলে রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছে।

নড়াইল পৌর এলাকার আংশিক এবং চারটি ইউনিয়ন লকডাউন দেওয়ার পর এবার পুরো জেলায় সাত দিনের লকডাউন দেওয়া হলো। গতকাল মধ্যরাত থেকে এ লকডাউন শুরু হয়েছে। আগের দেওয়া আংশিক লকডাউন শুরু হয়েছিল ১২ জুন থেকে। লকডাউন চলাকালে শুধু কাঁচাবাজার, মাছ ও ফলের দোকান প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্তু খোলা থাকবে।

সাতক্ষীরায় কিছুতেই কমছে না করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের হার। জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া লকডাউন এরই মধ্যে তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। গতকাল ছিল লকডাউনের তৃতীয় সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন। তবে মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়েও মানুষের চলাচল সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। লকডাউন উপেক্ষা করে হাটবাজারে ভিড় করছে মানুষ। জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি ঘরে জ্বরসহ সর্দি-কাশিতে ভুগছে বহু মানুষ। সীমিত পরিসরে চলছে ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে করোনার উপসর্গ নিয়ে আট শতাধিক মানুষ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ও নিজ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গতকাল সকাল ৬টা থেকে সাত দিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হয়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও আলুকদিয়া ইউনিয়নে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পৌর এলাকা ও পাশের আলুকদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে কেউ বাইরে বেরোলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শপিং মলসহ গরুর হাট ও পানের হাট বন্ধ থাকবে। ইজি বাইক, ভ্যান রাস্তায় বের হতে পারবে না।

যশোরের কেশবপুরে সম্প্রতি পাঁচজন করোনায় মারা যাওয়ায় পৌরসভায় গতকাল থেকে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের চায়ের দোকানের টেলিভিশন, ক্যারম বোর্ড ও হোটেলে বসে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ থাকবে। কেউ অযথা ঘোরাফেরা করতে পারবে না। এ ছাড়া উপজেলার বাগদহা ও সাতবাড়িয়া বাজারের সব দোকানপাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন করোনা পজিটিভ ছিল। বাকিদের করোনা উপসর্গ ছিল। মৃতদের মধ্যে সাতজনই রাজশাহী জেলার। এ নিয়ে চলতি মাসে রামেক করোনা ইউনিটে মারা গেছে ২০৩ জন।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন আরো ৫৪ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৩৭৭ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৩৬৫ জন।

নওগাঁয় শনাক্তে এক দিনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে গতকাল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৩০ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলারই ৭৯ জন। বর্তমানে জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৬৮ জন এবং হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে দুই হাজার ৮৪২ জন।

ঠাকুরগাঁওয়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সংক্রমণ ঠেকাতে জয়পুরহাট শহরসহ পাঁচবিবি ও কালাই পৌরসভা এলাকায় বিকেল ৫টা থেকে পরদিন ভোর ৬টা পর্যন্ত বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী আরেক জেলা শেরপুরেও করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৬১ জন। এ পর্যন্ত এক দিনে শনাক্তের রেকর্ড এটি। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৫ জনই জেলা সদরের বাসিন্দা। গত ১১ জুন থেকে দুই সপ্তাহের জন্য শেরপুর পৌর এলাকা লকডাউনে থাকলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। মানুষের অসচেতনতার কারণে অবাধ চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করায় করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠোকানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

এদিকে ঢাকা বিভাগের দুই জেলার মধ্যে ফরিদপুর শহরসহ ভাঙ্গা ও বোয়ালমারী পৌরসভা এলাকায় সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার ভোর ৬টা থেকে আগামী ২৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এ লকডাউন বলবৎ থাকবে। আর রাজবাড়ীর সদর, পাংশা ও গোয়ালন্দ পৌরসভায় সাত দিনের জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ বলবৎ হবে আজ মধ্যরাত থেকে।

(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)