kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

২০৪ ইউপিতে ভোট কাল

► দুই পৌরসভা, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন
► ২৬ ইউপিতে আ. লীগের প্রার্থীরা বিনা ভোটে জয়ী
► সহিংসতার আশঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



২০৪ ইউপিতে ভোট কাল

আগামীকাল সোমবার দেশে প্রথম ধাপে বরিশাল বিভাগসহ কয়েকটি এলাকার ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। এর মধ্যে ২০টি ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। এসব ইউপির মধ্যে ২৬টিতে সরকারি দলের একক প্রার্থী থাকায় চেয়ারম্যান পদে ভোট হচ্ছে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতারও খবর মিলেছে এবং আরো সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রথম ধাপে মোট ২৭১টি ইউপিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ১১ এপ্রিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত ১ এপ্রিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে ১১টি পৌরসভা ও জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনও স্থগিত করা হয়। এরপর গত ২ জুন করোনার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এমন এলাকার ইউপিগুলো বাদ রেখে ২১ জুন ২০৪টি ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া একই দিন দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ ও ঝালকাঠি পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানেরও সিদ্ধান্ত হয়।

কালের কণ্ঠ’র স্থানীয় প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকরা জানান, বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনে প্রার্থী না দিলেও কিছু ইউপিতে দলটির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরাও রয়েছেন লড়াইয়ের মাঠে।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউপিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের প্রচারে বাধা, তাঁদের ওপর হামলা ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে সদরের একটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি তিনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন দুই নারী প্রার্থী। দুজনই ক্ষমতাসীন দলের নেতা। একজন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যজন পাননি। দুজনই এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাঁদের স্বামীরাও চেয়ারম্যান ছিলেন এবং প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন। এই দুই প্রার্থীর লড়াই নিয়ে এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ৩ নম্বর বালিয়াপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে মূলত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হতে যাচ্ছে। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়ন বাজারে ও ঝাউতলায় গত শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে প্রতিপক্ষরা। এ সময় দুজন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী এক মেম্বার প্রার্থীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

যে ২০৪টি ইউপিতে ভোট : পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া, আংগারিয়া (ইভিএম) ও মুরাদিয়া; বাউফল উপজেলার ধুলিয়া, কেশবপুর, বগা (ইভিএম), চন্দ্রদ্বীপ, কালিশ্বরী, কনকদিয়া, আদাবাড়িয়া, কালাইয়া ও কাছিপাড়া; দশমিনা উপজেলার আলীপুর, বহরমপুর ও বাঁশবাড়িয়া; গলাচিপা উপজেলার আমখলা, গোলখালী, চিকনিকান্দি ও রতনদী তালতলী; বরিশাল সদরের কাশিপুর, চরবাড়িয়া (ইভিএম), জাগুয়া ও টংগীবাড়ীয়া; বাকেরগঞ্জের চরাদি, দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি, গারুড়িয়া, ভরপাশা, রঙ্গাী ও পাদ্রীশিবপুর; উজিরপুরের সাতলা, জল্লা, ওটরা, শোলক ও বোরোকোঠা; মুলাদীর নাজিরপুর, সফিপুর, গাছুয়া (ইভিএম), চরকালেখা, মুলাদী ও কাজিরচর; মেহেন্দিগঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ ও ভাষানচর; বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর (ইভিএম), কেদারপুর, দেহেরগতি ও মাধবপাশা; গৌরনদীর বাটাজোড় (ইভিএম), সরিকল, খানজাপুর, বার্থি, চাদশী ও মহিলারা; হিজলার নলচিরা, মেমানিয়া, গুয়াবাড়িয়া ও বড়জালিয়া; বানারীপাড়ার বিশারকান্দি, ইলুহার, চাখার, সালিয়াবাকপুর, বাইশারি, বানারীপাড়া ও উদয়কাঠি; বরগুনা সদরের বদরখালী, গৌরিচন্না, ফুলঝুড়ি, কেওড়াবুনিয়া, আয়লাপাতাকাটা, বুড়িরচর, ঢলুয়া (ইভিএম), বরগুনা (ইভিএম) ও নলটোনা; আমতলীর গুলিশাখালী, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া (ইভিএম) ও আরপাঙ্গাশিয়া; বেতাগীর বিবিচিনি, বেতাগী (ইভিএম), হোসনাবাদ, মোকামিয়া, বুড়ামজুমদার, কাজিরাবাদ ও সরিষামুড়ি; বামনার বুকাবুনিয়া, বামনা, রামনা ও ডৌয়াতলা; পাথরঘাটার কালমেঘা, কাঁকচিড়া ও কাঁঠালতলী। পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ভিটাবাড়িয়া, নদমুলা-শিয়ালকাঠি, তেলিখালী (ইভিএম), ধাওয়া ও গৌরীপুর; ইন্দুরকানীর বালিপাড়া; পিরোজপুর সদরের কদমতলা (ইভিএম), কলাখালী, টোনা ও শারিকতলা; মঠবাড়িয়ার তুষখালী (ইভিএম), মিরুখালী, বেতমোর রাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা ও হলতাগুলিশাখালী; নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা, বলদিয়া, গুয়ারেখা, দৈহারী, সোহাগদল, সারেংকাঠি, সুটিয়াকাঠি, স্বরূপকাঠি, সমুদয়কাঠি ও জলাবাড়ী; কাউখালীর আমড়াজুড়ি ও কাউখালী; নাজিরপুরের মাটিভাংগা, মালিখালী, নাজিরপুর ও সেখমাটিয়া (ইভিএম); ঝালকাঠি সদরের গাভারামচন্দ্রপুর, বিনয়কাঠি (ইভিএম), নবগ্রাম, কীর্তিপাশা, বাসণ্ডা, গাবখান-ধানসিঁড়ি, শেখেরহাট, নথুল্লাবাদ (ইভিএম) ও কেওড়া; নলছিটির ভৈরবপাশা (ইভিএম), মগড়, কুলকাঠি, কুশঙ্গল, নাচনমহল, রানপাশা, সুবিদপুর, সিদ্ধকাঠি, দপদপিয়া (ইভিএম) ও মোল্লারহাট; রাজাপুরের সাতুরিয়া, শুক্তগড় (ইভিএম), রাজাপুর, গালুয়া, বড়ইয়া ও মঠবাড়ী; কাঁঠালিয়ার চেচরীরামপুর, পাটিখালঘাটা, আমুয়া, কাঁঠালিয়া, শৌলজালিয়া ও আওরাবুনিয়া; ভোলার বোরহানউদ্দিনের গঙ্গাপুর ও সাচরা; তজুমদ্দিনের চাঁদপুর, চাচরা ও সম্ভুপুর; চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ, চরকলমি, হাজারীগঞ্জ, এওয়াজপুর ও জাহানপুর; মনপুরার হাজিরহাট ও দক্ষিণ সাকুচিয়া; রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী; বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া; নরসিংদী পলাশের গজারিয়া ও ডাংগা; গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমুলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, বাহাদুসাদী, জামালপুর ও মোক্তারপুর; মাদারীপুরের শিবচর শিবপুর, পাঁচ্চর, মাদবরেরচর, কুতুবপুর, কাদিরপুর (ইভিএম) দ্বিতীয় খণ্ড, ভাণ্ডারীকান্দি, বাঁশকান্দি, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী, শিরুয়াইল ও দত্তপাড়া। সুনামগঞ্জ ছাতকের ভাতগাঁও, নোয়ারাই ও সিংচাপইড়। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরবাদাম, চরপোড়াগাছা ও চর রমিজ এবং  কমলনগরের চর ফলকন, হাজিরহাট ও তোরাবগঞ্জ।

দুই পৌরসভায় নির্বাচন : দিনাজপুরের বোঁচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১২ জন, সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করছেন। মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. আসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রশিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, মো. নাহিদ বাসার চৌধুরী ও নাজমুন নাহার মুক্তি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে দুজন বিএনপির স্থানীয় নেতা। ঝালকাঠি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. লিয়াকত আলী তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের মো. হাবিবুর রহমান ও স্বতন্ত্র আফজাল হোসেন রানা। কাউন্সিলর পদে ২ নম্বর ওয়ার্ডে হাফিজ আল মাহামুদ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কামাল শরীফ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তরুণ কর্মকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ের পথে রয়েছেন। তাঁরা তিনজনই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা।

 



সাতদিনের সেরা