kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

বার্গনার-মোমেন বৈঠক

রোহিঙ্গা ফেরাতে জাতিসংঘের রোডম্যাপ চেয়েছে বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা ফেরাতে জাতিসংঘের রোডম্যাপ চেয়েছে বাংলাদেশ

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত বুধবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনারের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রত্যাশার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। তবে এই সংকটটির সমাধান মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনেই নিহিত। এটি গত চার বছরে সম্ভব হয়নি। আমরা চাই প্রত্যাবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘ স্পষ্ট একটি রোডম্যাপ তৈরি করুক।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থানের নেতিবাচক দিক, বিশেষ করে ওই এলাকায় বসবাসরত মূল জনগোষ্ঠীর ওপর এর বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতিসত্বর যদি প্রত্যাবাসন শুরু না হয়, তাহলে এটি কেবল এ এলাকারই সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাবে না, বরং তা পুরো অঞ্চল ও এর বাইরেও অস্থিরতা তৈরি করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতকে ভাসানচর প্রকল্পের কথা অবহিত করেন। তিনি বলেন, এখানে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাতিসংঘ যাতে ভাসানচরে মানবিক সহায়তা প্রদান করে সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিশেষ দূতকে ভাসানচর পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান মন্ত্রী।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন এস বার্গনার ভাসানচর পরিদর্শনে আগ্রহের কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বলেন, মিয়ানমারে যাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায় এবং অচিরেই যাতে প্রত্যাবাসনকাজ শুরু করা যায় সে জন্য তিনি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রসহ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সব অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

আরো বেশি বাংলাদেশি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা নিয়োগের অনুরোধ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বুধবার ভোরে জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রুয়ার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থন ও অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি জাতিসংঘের পিস অপারেশন বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার উদাহরণ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তরক্ষী, বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। 

নারী শান্তিরক্ষীদের আরো উৎসাহিত করতে পিস অপারেশন বিভাগের বিশেষ ডকুমেন্টারিসহ অন্য প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত করতে তিনি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ল্যাক্রুয়াকে অনুরোধ জানান। এ ছাড়া জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও মাঠ পর্যায়ের শান্তি রক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদগুলোতে আরো বেশি বাংলাদেশি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য জেনারেল ল্যাক্রুয়াকে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সূদীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের তাৎপর্যপূর্ণ অংশগ্রহণ ও সাফল্যমণ্ডিত অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন জেনারেল ল্যাক্রুয়া। তিনি আশা করেন, শান্তি রক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। শান্তি রক্ষা মিশনগুলোতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারি ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন জেনারেল ল্যাক্রুয়া। উভয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা অংশ নেন।

 



সাতদিনের সেরা