kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

জেনেভা বৈঠকে হাস্যোজ্জ্বল বাইডেন-পুতিন

ফলপ্রসূ হওয়ার আশা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




জেনেভা বৈঠকে হাস্যোজ্জ্বল বাইডেন-পুতিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁকে অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক বলে আখ্যায়িত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর ভাষায়, জো বাইডেন আগের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে খুব আলাদা মানুষ। তবে বন্দুক সহিংসতা ও মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

গতকাল বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভার লা গ্রেইনজ ভিলায় বৈঠক শুরু করেন দুই নেতা। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, সাইবার হ্যাকিং এবং নির্বাচনে হস্তক্ষেপসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের। প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন রুশ প্রেসিডেন্ট।

আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিকায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন উদ্বেগ জানালেও তা অসাড় বলে মন্তব্য করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে রাশিয়া সোভিয়েত আমলের অবকাঠামোগুলো পুনর্বহাল করছে কিন্তু এ ক্ষেত্রে মস্কো আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি অনুসরণ করতে চায়। আর্কটিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সহযোগী হওয়া উচিত।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে অন্য নেতাদের চেয়ে আলাদা বলে উল্লেখ করার পর বন্দুক সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘দেশে যা কিছুই ঘটুক না কেন, একভাবে না একভাবে তার দায় নেতাদের।

আমেরিকার রাস্তার দিকে তাকান, প্রতিদিনই সেখানে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। মুখ খোলারও সুযোগ পাওয়ার আগে গুলি করে খুন করা হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারচর্চা নিয়েও সমালোচনা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বজুড়ে সিআইএর গোপন কারাগার রয়েছে, আর সেখানে মানুষকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এভাবে মানবাধিকারের সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে কেউ কি একমত পোষণ করবে?’

আর বৈঠকের আগে এই আয়োজনের জন্য বাইডেনকে ধন্যবাদ জানান পুতিন। এ সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের প্রচুর বিষয় রয়েছে, যেগুলোর জন্য দরকার শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ-আলোচনা। রুশ প্রেসিডেন্ট এ-ও যোগ করেন, ‘আমি আশা করি, আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।’ জবাবে হাস্যময় বাইডেন বলেন, ‘মুখোমুখি বসার ব্যাপারটি সব সময়ের জন্যই ভালো।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাইডেনের এটাই পুতিনের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। এ কারণে এই বৈঠক নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বাইডেন-পুতিন এমন এক সময় বৈঠকে বসলেন, যখন দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ কথা কবুল করেছে উভয় পক্ষই।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বহু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। এ অবস্থায় বাইডেন ও পুতিনের এই বৈঠক থেকে সম্ভাব্য প্রাপ্তি নিয়ে খুব একটা প্রত্যাশা করছেন না তাঁরা। তবে ছোট ছোট কিছু ক্ষেত্রে দুই নেতা একমত হতে পারেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

 



সাতদিনের সেরা