kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জকিগঞ্জে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান!

সিলেটের জকিগঞ্জে অনুসন্ধান কূপে ব্যাপক সফলতার আলামত দেখছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় ডিএসটিতে (ড্রিল স্টিম টেস্ট) সৌভাগ্য শিখার দেখা পেয়েছে রাষ্ট্রীয় কম্পানিটি। এটি দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

কূপটির অভ্যন্তরে চাপ রয়েছে ছয় হাজার পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চি), আর ফ্লোটিং চাপ রয়েছে এক হাজার তিন শর মতো। প্রথমত একটি স্তরের টেস্ট চলমান। কূপটিতে মোট চারটি সম্ভাবনাময় স্তরের আভাস পেয়েছে বাপেক্স। সবচেয়ে নিচের স্তরে ডিএসটি করা হচ্ছে। এরপর অন্যান্য স্তরে টেস্ট করা হবে। অন্য স্তরগুলো দুই হাজার মিটার থেকে শুরু হয়েছে। কূপটির খননকাজ শুরু করা হয় গত মার্চে। বিয়ানীবাজার থেকে ৩২ কিলোমিটার ও গোলাপগঞ্জ থেকে ৪৬ কিলোমিটার দূরত্বে নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রের অবস্থান।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা ভালো কিছু আশা করছি, অনেক সময় পকেট থাকতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, পর্যবেক্ষণ শেষ হলে বলতে পারব। তার আগে বললে সেটি সঠিক না-ও হতে পারে।’

সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সেমিনারে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিসুর রহমান এই গ্যাসক্ষেত্র সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা নতুন একটি ফিল্ডে সফল হতে চলেছি। সেখানে কূপের প্রেসার ছয় হাজারের অধিক। পরীক্ষা চলছে, এটি আমাদের জন্য দারুণ সুখবর হতে পারে। আশা করছি খুব শিগগির ভালো খবর দিতে পারব।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভালো কিছুর সম্ভাবনা দেখছি, নিশ্চয়ই আমাদের জন্য সুখবর। ক্ষেত্রটিতে হয়তো বড় মজুদ পাওয়া যাবে না। আমাদের পুরনো কিছু কূপের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে নতুন ক্ষেত্রটি ভালো ভূমিকা রাখবে। পর্যবেক্ষণে রয়েছে, শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। আমরা আরো বেশ কিছু গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি।’

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২১.৪ টিসিএফ। আরো ছয় টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুদ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রমাণিত মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র তিন টিসিএফ। আর সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে আরো সাত টিসিএফের মতো।

দেশীয় কম্পানির অধীনে থাকা ৭০টি কূপের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে এক হাজার ১৪৫ এমএমসিএফ। এ ছাড়া আইওসির ৪৫টি কূপের উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ৬১৫ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট)। দৈনিক কমবেশি দুই হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা