kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

পরীক্ষা আয়োজনের ভাবনায় বেশি জোর

শরীফুল আলম সুমন   

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পরীক্ষা আয়োজনের ভাবনায় বেশি জোর

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে এবারও ভর করেছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। এ রকম প্রেক্ষাপটে সরকারের ভাবনায় রয়েছে একাধিক বিকল্প। তবে এখনো পরীক্ষা আয়োজনের ওপরই নজর বেশি। এ জন্য আরো কয়েক মাস, সম্ভব হলে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে সরকার। এর পরও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে কষা হবে বিকল্প ছক। তবে পরীক্ষার এই দোটানার মধ্যে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে এসএসসি ও এইচএসসির প্রায় ৪৪ লাখ পরীক্ষার্থীর।

গত রবিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন সেটি যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আমরা বিকল্প নিয়েও চিন্তা করছি।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য এই বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ডিসেম্বরে পরীক্ষা নিতে হলে শিক্ষার্থীদের কিছুদিন ক্লাস করানোর জন্য কয়েক মাস আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে গুরুত্বপূর্ণ চার-পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিকল্প ভাবনা আছে। বিশেষ করে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।

তবে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়ন হতে পারে। এরই মধ্যে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া শুরু হয়েছে। সেভাবেই এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। এটা অনেকটাই ‘ওপেন বুক এক্সাম’ পদ্ধতির মতো। তবে এই দুই পাবলিক পরীক্ষায় অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হলে এর সঙ্গে আগের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার নম্বর যুক্ত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসএসসির ক্ষেত্রে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং এইচএসসির ক্ষেত্রে জেএসসি ও এসএসসির নম্বর এই মূল্যায়নে থাকতে পারে। 

আর সবশেষ বিকল্প হচ্ছে আগের পরীক্ষাগুলোর ভিত্তিতে মূল্যায়ন। কিন্তু গেল বছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন করা হলেও তা ছিল অনেকটাই ‘অটো পাসের’ মতো। তবে কোনোভাবেই এই সব শেষ বিকল্পে যেতে চায় না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারেই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত রয়েছে। অন্তত আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখতে চাই। এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে বিকল্প ভাবতে হবে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতিই রয়েছে। তবে অটোপাস শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। আমরা কোনোভাবেই সেদিকে যেতে চাই না। আর অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়াটাও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কঠিন।’

এ ছাড়া অনলাইনে পরীক্ষার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এরই মধ্যে একটি কমিটি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যা শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। নাম প্রকাশ না করে কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে অনলাইনে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় বলে আমরা জানিয়েছি। যদি অনলাইনে পরীক্ষা নিতে হয় তাহলে অন্তত তিন-চার মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবস ও এইচএসসির জন্য ৮৪ কর্মদিবসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু একাধিকবার ঘোষণা দেওয়ার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়নি। এসব শিক্ষার্থীকে ক্লাস না করিয়ে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না। আবার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসরুমে নেওয়ার চিন্তাও করা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ গত রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে করোনার যে ঊর্ধ্বগতি এবং আগামী জুলাইয়ে ঈদুল আজহার কারণে শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা খুবই কম।    

জানা যায়, একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। কারণ এই দুটি পরীক্ষাই বলে দেয়, একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে। কিন্তু প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দশম শ্রেণির ক্লাস এবং এইচএসসির পরীক্ষার্থীরা দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস করতে পারেনি। ফলে দুই পরীক্ষার ৪৪ লাখ শিক্ষার্থীও মহাদুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে করোনাকাল পার করছে।

তবে শহরাঞ্চলের কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করায় তাদের আর পড়ার তেমন কিছু নেই। কারণ করোনার মধ্যে তারা অনলাইনে ক্লাস ও প্রাইভেট পড়েছে। এখন তারা আর পড়ার টেবিলে মন বসাতে পারছে না। পরীক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে তারা এখন ক্লান্ত। আবার মফস্বলের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের পড়ালেখাও বন্ধ। অনেকেই নানা ধরনের কাজে যোগ দিয়েছে। গত দেড় বছর ধরে তাদের পড়ালেখার সঙ্গে তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে যতই সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হোক না কেন, তাদের জন্য পড়ালেখায় ফিরে আসা কঠিন।