kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

লকডাউন মানাতে মাঠে পুলিশ, তবু মানুষের সারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



লকডাউন মানাতে মাঠে পুলিশ, তবু মানুষের সারি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী মহানগরে চলছে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন। কোথাও বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে আবার কোথাও সড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। তার পরও থামানো যাচ্ছে না জনসাধারণের চলাচল। নানা অজুহাতে ঘরের বাইরে বের হচ্ছে মানুষ। ঢিলেঢালা লকডাউন দেখা গেছে নাটোর, শেরপুর, নোয়াখালীতেও। বিস্তারিত কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবরে—

রাজশাহী : রাজশাহী মহানগর ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠে রয়েছেন র‌্যাব সদস্যরাও। কিন্তু বাজার, মোড়, অলিগলিসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের জটলাও লক্ষ করা যাচ্ছে। হেঁটে, অটোরিকশা, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলে চড়েও নানা কাজে বের হচ্ছে মানুষ। আর কর্মহীনরা আড্ডা দিচ্ছে পাড়ার মোড়ে। তবে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য গতকাল পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বা অনুদান পৌঁছানোর খবর পাওয়া যায়নি।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে নগরীর তেরোখাদিয়া, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর, সাহেববাজার, শিরোইল, শালবাগান মোড়, ভদ্রা মোড়, তালাইমারী, কাজলা, বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন মোড়ে মোড়ে বা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। রাস্তায় যেকোনো যানবাহন বা একসঙ্গে কয়েকজনকে হেঁটে যেতে দেখলেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু তার মধ্যে চলছে ছোট ছোট যানবাহন, যদিও এই সংখ্যা অনেক কম। আবার হেঁটেও চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে শত শত মানুষকে। সব মিলিয়ে কঠোর লকডাউন দিয়েও ঘরে রাখা যাচ্ছে না নগরবাসীকে।

এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে রয়েছেন। বিনা কারণে রাস্তায় বের হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। জরুরি পণ্য ও সেবা ছাড়া অন্যান্য সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও ছোট ছোট দোকানের অর্ধেক পাল্লা খুলে রেখেও ব্যবসা করতে দেখা গেছে। খোলা আছে কাঁচাবাজার, লকডাউনে দরিদ্র মানুষের জন্য চালু আছে টিসিবির ট্রাকসেলও।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাজশাহীতে আলাদাভাবে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এটা রাজশাহীবাসীকে বুঝতে হবে। আমরা সাধ্যমতো মানুষকে ঘরে রাখতে চেষ্টা করছি। কিন্তু তার পরও মানুষ নানা অজুহাতে বের হচ্ছে। কোথাও কোথাও উল্টো পুলিশের ওপরই চড়াও হচ্ছে পথচারীরা। ফলে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে যেন যুদ্ধ করতে হচ্ছে।’

নাটোর : নাটোর সদর ও সিংড়া পৌরসভায় সর্বাত্মক লকডাউনের চতুর্থ দিন গতকাল শনিবার ঢিলেঢালাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। সড়কে পুলিশের তৎপরতা বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম তেমন চোখে পড়েনি। তবে শহরের কিছু স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। নাটোর শহরে কাঁচা পণ্য, ওষুধ ও মুদি দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলো বাদে ভেতরের বিভিন্ন রাস্তায় অটো ও রিকশা চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

শেরপুর : ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা জেলা শেরপুরে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার থেকে শেরপুর পৌর এলাকায় দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। তবে বিধি-নিষেধ মানা নিয়ে গতকাল সাধারণ মানুষের মাঝে ঢিলেঢালা ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নির্দেশনা অমান্য করায় জরিমানা আদায় করাসহ বিধি-নিষেধ মেনে চলতে প্রশাসনের তরফে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকেও সড়কে প্রচারণা করা হয়েছে। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জন-উদ্যোগ করোনা ও পরিবেশ সচেতনতামূলক পথবিতর্ক অনুষ্ঠান করেছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালী পৌর এলাকাসহ ছয়টি ইউনিয়নে আরোপিত বিশেষ লকডাউনে গতকাল লোকজনের উপস্থিতি কম ছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজি বাইক চলাচল গতকাল বন্ধ করে দেওয়ায় জনসমাগম কম দেখা গেছে। বিপণিবিতান বন্ধ থাকার পাশাপাশি কাঁচাবাজারেও প্রশাসনের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামী ১৮ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন বলবৎ থাকবে।

শনিবার সকাল থেকে শহরে রিকশা ব্যতীত অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। রিকশা চলাচলও সীমিত ছিল। কাঁচাবাজারেও অন্যান্য দিনের চেয়ে ভিড় অনেক কম দেখা গেছে। খাবার দোকানও সীমিত খোলা থাকলেও কাউকে বসতে দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনে ছয়টি বিশেষ টিম শহর এবং শহরতলির বিভিন্ন স্থানে দিনভর তৎপর থাকায় রাস্তাঘাট অনেকটা জনশূন্য দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে মাস্ক না পরা এবং দোকান খোলা থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানাও করেছেন।

কুষ্টিয়া : সংক্রমণ বাড়ায় গতকাল সকাল থেকে কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় সাত দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ  শুরু হয়েছে। এই বিধি-নিষেধের আওতায় শহরের সব ধরনের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মল, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। তবে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও তাপস কুমার সরকার জানান, বিধি-নিষেধের প্রথম দিন করোনা রোগী বেড়েছে। এদিন হাসপাতালে ভর্তি আরো দুজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩৬ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

সাতক্ষীরা : দ্বিতীয় সপ্তাহের লকডাউনের  প্রথম দিন সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছে। আর করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

গতকাল সড়ক-মহাসড়কে প্রশাসনকে কিছুটা কঠোর হতে দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে চলেছে তল্লাশি। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে হাট-বাজারগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। লোকজন কিছুতেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাচ্ছে না।

এদিকে ভোমরা স্থলবন্দরেও সীমিত পরিসরে চলছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা যাতে খোলামেলা ঘুরে বেড়াতে না পারেন সে জন্য পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।