kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

ফের অশান্ত কোম্পানীগঞ্জ

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা

► কাদের মির্জাকে দায়ী করে প্রতিবাদে হরতাল-অবরোধের ডাক
► অবরোধকালে পুলিশের গুলিতে আহত ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা

আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার এই হামলাকালে বাদলের সঙ্গে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল হোসেন আলালও আহত হয়েছেন। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে এই হামলার প্রতিবাদে বাদল সমর্থকরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৪৮ ঘণ্টা হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয়। তারা বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। দুপুরে সড়ক অবরোধ তুলতে গিয়ে টেকের বাজারে পুলিশের সঙ্গে বাদল সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলি চালালে চারজন আহত হয়। একই সময়ে চার পুলিশ সদস্যও আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান বাদল গতকাল সকাল ৯টার দিকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলালসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বসুরহাট বাজারে ইসলামী ব্যাংকের সামনে এলে একদল সন্ত্রাসী গাড়িটির গতি রোধ করে। বাদল গাড়ি থেকে নেমে একটি দোকানে ঢুকলে সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়েই তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আলালের ওপরও হামলা চালানো হয়। গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয়রা বাদলকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। আলালকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও সেতুমন্ত্রীর ভাগ্নে মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু এ বিষয়ে বলেন, পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ৪০-৫০ জন অনুসারী নিয়ে বাজার পরিদর্শন করে আসার পথে বাদলের গাড়ির মুখোমুখি হন। এ সময় কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারী কেচ্ছা রাসেল, ডাকাত মাসুদ, খান, শিহাব, সজল, আরিফ, ওয়াসিমসহ অন্যরা বাদলের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বাদলের গাড়ি লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি করে। পরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে।

এদিকে মঞ্জু এই হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলায় ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও অবরোধের ডাক দেন। তাঁর এই ঘোষণার পর কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাংশে কিছু স্থানে বাদলের সমর্থকরা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। সকাল ১০টা থেকে বসুরহাট-কবিরহাট, বসুরহাট-চাপরাশির হাট ও বসুরহাট-দাগনভূঞা সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। পরে পুলিশ অবরোধ তুলে দেয়। দুপুর ১টার দিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়াধাওয়ি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পুলিশের রাবার বুলেট ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় চার পুলিশ সদস্যসহ আটজন আহত হয়। এর মধ্যে তরিকুল ইসলাম চয়ন নামের একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লেগেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মো. জোবায়ের জানান, হামলায় বাদল বুক, হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে রেফার করা হয়। তবে তিনি ঢাকায় গেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাদের মির্জার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খিসা জানান, পিকেটিংকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ শটগানের ২০-২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল্লা আনোয়ার বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।