kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

থামার সংকেতে পুলিশকে পিষে হত্যা চট্টগ্রামে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থামার সংকেতে পুলিশকে পিষে হত্যা চট্টগ্রামে!

চট্টগ্রামে মাইক্রোবাস চাপায় পুলিশের এএসআই কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (৩৮) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মাসুম (২৬) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল। গতকাল শুক্রবার ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য, মদ পরিবহন করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে পুলিশকে পিষে মেরে পালিয়ে যান।

নিহত এএসআই সালাউদ্দিন চান্দগাঁও থানায় কর্মরত ছিলেন।

তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়পুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নাদেরুজ্জামান পাটোয়ারীর ছেলে। আহত পুলিশ সদস্য মাসুমকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

চান্দগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভী পুকুরপার থেকে সিঅ্যান্ডবি ও আশপাশ এলাকায় রাত্রিকালীন ডিউটিতে ছিলেন সালাউদ্দিন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, একটি কালো মাইক্রোবাসে করে (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৩৬৬৫) পার্বত্য এলাকা থেকে চোলাই মদ চট্টগ্রাম শহরে নেওয়া হচ্ছে। সালাউদ্দিন ও চালক কনস্টেবল মো. মাসুম চান্দগাঁও থানাধীন মেহেরাজ খান ঘাটা পেট্রল পাম্পের সামনে ওই গাড়িটিকে থামার জন্য সংকেত দেন। চালক থামানোর মতো করে গাড়ির গতি কমিয়ে আনলে ওই দুই পুলিশ সদস্য গাড়ির সামনে যান। কিন্তু গাড়ির চালক আবারও গতি বাড়িয়ে দেন। এতে সালাউদ্দীন ধাক্কা খেয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায়, কোমরে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান। মাসুমও আঘাত পান।

ওসি মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, মাইক্রোবাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। তবে এর চালক ও তাঁর সঙ্গীরা পালিয়েছেন। গাড়িটি থেকে ৭৩০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারে আহাজারি

কালের কণ্ঠ’র লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, ছেলের শোকে গত রাতে বাবা নাদেরুজ্জামানের কান্না কেউই থামাতে পারছিলেন না। এ প্রতিনিধি রাত ৯টার দিকে তাঁর মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আহাজারি করে ওঠেন, ‘ইরে-বাবা, কয়রে বাবা, বাবা তুই কই। তুই তো বাড়ি আসবি বলেছিলে, লাশ হয়ে ফিরলি কেন?’

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল নাদেরুজ্জামান কিছুটা শান্ত হয়ে বলেন, ‘গত পরশু আমার সঙ্গে সালাহ উদ্দিনের কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলেছিল।’

গতকাল বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে সালাহ উদ্দিনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। সালাহ উদ্দিনের মামাতো বোন শাহনাজ আক্তার বিন্দু বলেন, ‘আমার ভাইয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তিনি বাড়িতে এলে তারিখ ঠিক করার কথা ছিল। ভাইয়াকে যারা হত্যা করেছে, আমরা তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।’