kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

পাহাড়ে ‘সূর্যডিম’

দিদারুল আলম, গুইমারা (খাগড়াছড়ি)   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাহাড়ে ‘সূর্যডিম’

পাহাড়ি ঢালু জমিতে গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন আম। বেগুনি-লালের মিশেলে বাহারি রঙের এই আমের নাম ‘মিয়াজাকি’। জাপান থেকে আনা এই আম বিশ্ববাজারে ‘রেড ম্যাঙ্গো’ বা ‘এগ অব দ্য সান’ নামে পরিচিত; বাংলাদেশে এর পরিচিতি ‘সূর্যডিম’ নামে। এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। খাগড়াছড়িতে এই আম চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন হ্ল্যাশিমং চৌধুরী নামের এক কৃষক।

বর্তমানে খাগড়াছড়িতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬৫ জাতের আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশি ব্যানানা, কিউ জাই, থ্রি টেস্ট, ফুনাই, লাল ফুনাই, কিং অব চাকপাত, ব্ল্যাক স্টার আম আগে থেকেই চাষ হয়ে আসছে। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে রেড ম্যাঙ্গো বা সূর্যডিম। তিন-চার বছর আগে খাগড়াছড়িতে এই আমের গাছের চারা লাগান কৃষক আতিয়ার, সাসিমং, দীপংকর চাকমা, হ্ল্যাশিমং চৌধুরীসহ কয়েকজন। এবারই প্রথম খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনিঘাট এলাকায় হ্ল্যাশিমং চৌধুরীর বাগানে অন্তত ১২০টি গাছে এই সূর্যডিম আম ধরেছে। এই আমের মনোরম দৃশ্যে সবুজ পাহাড় যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। আমের সাফল্যে বিস্মিত কৃষি বিভাগও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের ঢালুতে সারি সারি মিয়াজাকি জাতের আমের গাছ। প্রতিটি গাছের বয়স তিন থেকে চার বছর। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে ৩০ থেকে ৪০টি মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম। প্রতিটি আমের ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম। পুরো আম লাল রঙে মোড়ানো। রঙিন এই আম দেখতে অনেকেই ভিড় করছে ক্রা এএ অ্যাগ্রো ফার্ম নামের বাগানে।

কৃষক হ্ল্যাশিমং চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, মহালছড়ির ধুমনিঘাট এলাকায় ৩৫ একর পাহাড়জুড়ে ফল চাষ করে ক্রা এএ অ্যাগ্রো ফার্ম গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর বাগানে প্রায় ৬০ প্রজাতির আমগাছ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনিই প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে মিয়াজাকি জাতের আমের আবাদ শুরু করেছেন। তিন-চার বছর আগে দেশের বাইরে থেকে চারা সংগ্রহ করে মিয়াজাকি আমের চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। বিদেশি প্রজাতি হওয়ায় ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে আমটি চাষাবাদ করেছেন তিনি। রোপণের চার বছর পরে ভালো ফলনও পেয়েছেন।

তিনি বলেন, আমটির রং অত্যন্ত সুন্দর। দাম বেশি হওয়ায় এটি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয় না। দেশের বিভিন্ন সুপারশপে এটি পাওয়া যাবে। অনেক শৌখিন ক্রেতাও আমটি বাগান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজি আম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা এই আম চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, সূর্যডিম বা মিয়াজাকি হলো জাপানিজ আম। বিশ্ববাজারে এটি রেড ম্যাঙ্গো নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। জাপানিজ এই আমের স্বাদ অন্য আমের চেয়ে প্রায় ১৫ গুণ বেশি। আমটি খেতে খুবই মিষ্টি। আমটির গড় ওজন প্রায় ৭০০ গ্রামের মতো। বিশ্ববাজারে এর ভালো  দাম ও চাহিদা রয়েছে। অনেক কৃষক নতুন এ জাতের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। 

প্রচলিত জাতের পাশাপাশি বিদেশি জাতের আম চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্ল্যাশিমং চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন কৃষক কয়েক বছর আগে এই আমের চাষ শুরু করেছেন। তবে হ্ল্যাশিমং চৌধুরীর বাগানে প্রথম ফল আসে। রং ও আকারের কারণে এটিকে সূর্যের ডিম বলা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও আবহাওয়ায় মিয়াজাকির ফলন অত্যন্ত ইতিবাচক। এর পরও গভীর পর্যবেক্ষণ করছে কৃষি বিভাগ। প্রাকৃতিকভাবে রঙিন হওয়ায় এ আম দেখতে বেশ সুন্দর। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে আমাদের দেশের কৃষক লাভবান হতে পারবে। চাষাবাদ পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বাজারে প্রচলিত আমের তুলনায় এর দাম কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় চারার দামও বেশি। হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে এটি কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা