kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

৫৬০ মসজিদ গড়ে ইতিহাসের পাতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মুসল্লির প্রাণে প্রাণে আনন্দের রোশনাই

মোবারক আজাদ, খুলনা থেকে   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসল্লির প্রাণে প্রাণে আনন্দের রোশনাই

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার দাখিল ও কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ সারা দেশে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন। ছবি : শেখ হাসান

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের কোথাও এত মসজিদ একসঙ্গে নির্মাণের নজির নেই। এবার তা করে দেখিয়ে ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণসহ শত শত প্রশংসনীয় কাজের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছেন রোশনাই। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশজুড়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করে তাক লাগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই কীর্তি মুসলিম ও ইসলামের ইতিহাসে লেখা হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ। ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং মসজিদকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এই মডেল মসজিদগুলো ছড়াবে দ্যুতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রথম পর্যায়ে নির্মিত আটটি বিভাগের ৫০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুলনার দাখিল ও কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের পর ওই মডেল মসজিদ ঘিরে  এলাকার বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে অনুভূতি জানিয়ে খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার মাস্টার্সের (আল কুরআন) ছাত্র মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের এতগুলো মসজিদ নির্মাণ করে এই সরকার মুসলিম ইতিহাসের অনন্য এক নজির স্থাপন করল। আশা করি, নামাজ পড়াসহ ইসলামিক সংস্কৃতি বিষয়ের অন্যতম এই চর্চাকেন্দ্র আমাদের সবাইকে দ্বিনের পথে আনবে।’

উদ্বোধন হওয়া মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের একসঙ্গে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। আগে দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও কুসংস্কার দূর করার সুযোগ ছিল না। আশা করি, সারা দেশে নির্মিত মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে এসবের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হবে। এ ছাড়া প্রতি জুমার নামাজে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে, যাতে সঠিকভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসার হয়। যে উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মসজিদগুলো নির্মাণ করেছেন, আশা করি তাঁর শতভাগ উদ্দেশ্য পূরণ হবে।’

মডেল মসজিদ সংলগ্ন খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল খায়ের জাকারিয়া বলেন, ‘এসব মডেল মসজিদ নির্মাণ দেশ ও সমাজের জন্য এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। এখানে মুসল্লিদের জন্য যত সুযোগ-সুবিধা থাকবে তা অতীতের কোনো মসজিদে ছিল না। নারী-পুরুষ সবার জন্য অনন্য এক উপহার। মডেল মসজিদগুলো থেকে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী প্রচার হবে, ইসলামের সঠিক প্রচার হবে।’

মডেল মসজিদের পাঠাগার রক্ষণাবেক্ষক মো. মনির শেখ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মুসলমানদের প্রার্থনাসহ সাংস্কৃতিক বিষয়াদি নিয়ে চর্চা করার জন্য এমন দৃষ্টিনন্দন মসজিদ তৈরি করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আমরা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মনে প্রাণে অনেক খুশি।’

খুলনা মডেল মসজিদ এলাকার খানজাহান আলী সড়কের বাসিন্দা মোক্তার আলী বলেন, ‘এসব মসজিদ নির্মাণে বিশ্ব রেকর্ড করলেন প্রধানমন্ত্রী। মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে দেশের মানুষ ইসলাম ধর্মের বিষয়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ পাবে।’

খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মহিবুল্লাহ হাসান বলেন, ‘একটা মহল এক সময় বলত, এই সরকার ইসলামবিরোধী। আশা করি, এই মডেল মসজিদগুলো নির্মাণে ওই মহলকে জবাব দেওয়া হয়ে গেছে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে এত সুন্দর মসজিদ হয়েছে, খুবই আনন্দ লাগছে।’