kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

কারাবন্দি সেই মিনুকে মুক্তির নির্দেশ

অপরাধী কুলসুমীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কারাবন্দি সেই মিনুকে মুক্তির নির্দেশ

চট্টগ্রামে একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীর পরিবর্তে (অর্থের বিনিময়ে) কারাবন্দি নিরীহ মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অপরাধী কুলসুমীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় হাইকোর্টে কুলসুমীর আপিল ও জামিন আবেদন দাখিলের সঙ্গে যুক্ত চট্টগ্রামের ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, তাঁর সহকর্মী অ্যাডভোকেট নুরুল আনোয়ার ও অ্যাডভোকেট বিবেকানন্দ চৌধুরী এবং সহকারী সৌরভকে আগামী ২৮ জুন হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন ওই চারজনকে এ মামলার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ নির্দেশ দেন। আদালত বলেছেন, মিনু ডাল-ভাতের আশায় স্বেচ্ছায় কারাগারে যেতে সম্মত হয়েছেন ঠিক, কিন্তু কুলসুমীর মামলায় মিনুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই মিনুকে এই মামলায় কারাগারে আটক রাখা ঠিক হবে না। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এটা মারাত্মক প্রতারণা। এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শুনানির শুরুতে অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন আদালতে কুলসুমীর হাইকোর্টে আপিল করা ও জামিন আবেদন করার পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি লিখিতভাবে চট্টগ্রামের ২ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট এম এ নাসের, তাঁর দুই সহকর্মী ও এক সহকারীর ভূমিকা কী ছিল, তা আদালতকে জানান।

জানা যায়, চট্টগ্রামে পোশাক কারখানার কর্মী কোহিনুর বেগম হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত

মহানগর দায়রা জজ আদালত এক রায়ে কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন কুলসুমী আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে পলাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়। এই কুলসুমীর পরিবর্তে ২০১৮ সালের ১২ জুন চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মিনু। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি।

গত ১৮ মার্চ বিষয়টি চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর তা গত ২১ মার্চ রায় প্রদানকারী চট্টগ্রামের আদালতের নজরে আনা হলে পরদিন ২২ মার্চ কারাগার থেকে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। মিনু হাজির হয়ে আদালতকে পুরো ঘটনা জানান।



সাতদিনের সেরা