kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

বিএনপির বাজেট প্রতিক্রিয়া

সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই

অর্থমন্ত্রী দুই হাত ভরে দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই

বিএনপি মনে করে মহামারিকালে মানুষের জীবন-জীবিকায় স্বাভাবিক গতি ফেরাতে ও বেঁচে থাকার নিশ্চয়তায় সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এককথায় এই বাজেটে বাংলাদেশের মানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলন হয়নি।

গতকাল শুক্রবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি নেই। সে জন্য সাধারণ মানুষ যারা সংখ্যায় বেশি, দিন আনে দিন খায় তাদের খুশি করার কোনো দরকার নেই। যাদের খুশি করলে তাদের দুর্নীতিটা বহাল থাকবে, সেটাই তারা করেছে। এটা তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ীই হয়েছে। সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের অর্থনীতি চাই, যা এই বাজেটে অনুপস্থিত।’

বৈষম্যহীন, জনবান্ধব, কল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশে ‘জন-আকাঙ্ক্ষার বাজেট’ প্রণয়ন সম্ভব বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “জনগণকে করোনা মহামারির সংকট থেকে উত্তরণে প্রস্তাবিত বাজেটে দিকনির্দেশনা নেই। অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটের শিরোনাম করেছেন, ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে।’ বাজেট নাকি দেওয়া হয়েছে মানুষের জন্য। শুনতে ভালো শোনায়। কিন্তু বাজেটে দিন আনে দিন খায়—এমন মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার নগদ অর্থের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নেই। এখানে পুরনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যাংকনির্ভর ঋণের কথাই বলা হয়েছে। এই বাজেটে হতদরিদ্র ও শ্রমিকদের প্রত্যাশিত প্রণোদনা উপেক্ষিত হয়েছে। অনেক দেশে প্রণোদনার বরাদ্দ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু সেখানে সরকারের বরাদ্দ ২ শতাংশের নিচে।”

একে ‘লোক-দেখানো প্রণোদনা’ মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সম্প্রসারণের নামে যে সামান্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। মধ্যবিত্তদের সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, যা মধ্যবিত্তকে হতাশ করেছে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে বেকার ও শহর থেকে গ্রামে চলে যাওয়া মানুষজন ও প্রবাসীদের সহায়তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।

স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এত কথা বলা হলেও এই খাতে বরাদ্দ জিডিপির সেই ১ শতাংশের মধ্যেই আছে। এটা খুবই দুঃখের। এই বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে চাহিদা মিটবে না। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করতে হবে। করোনা টিকা প্রদানের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। সরকার ২৫ লাখ মানুষকে মাসে টিকা দেওয়ার কথা বলেছে। সেটা কবে থেকে কার্যকর হবে, কিভাবে হবে, সে সম্পর্কে কিছু নিশ্চিত করে বলা হয়নি।’

বাজেটে এসএমই খাতে বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান এই খাতে। কিন্তু সরকারের প্রণোদনা পেলেন মূলত বড় শিল্পমালিকরা।

মুদ্রাস্ফীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অনেক আগেই মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। গত এপ্রিলে গড়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৫৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে তা ধরা হয়েছে ৫.৩ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবভিত্তিক নয়। সরকারের প্রক্ষেপণ আর বাস্তবতায় কোনো মিল নেই। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।’

বাজেটে মৎস্য চাষ খাতে প্রস্তাবিত কর বাতিল এবং ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।

করপোরেট ছাড় প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী দুই হাত ভরে দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের। উনি নিজেও ব্যবসায়ী। বাজেটে হতাশ মধ্যবিত্তরা, খুশি ব্যবসায়ী মহল।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. শামসুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা