kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

এবার বর্ষায় ডুববে না ঢাকা

দুই সিটি মেয়র শোনাচ্ছেন আশার বাণী

শম্পা বিশ্বাস   

২৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এবার বর্ষায় ডুববে না ঢাকা

অল্প বৃষ্টিতেই প্রতিবছর হাঁটুপানিতে থইথই করে ঢাকা শহর, যদিও এই মৌসুমে ঢাকার দুই মেয়র শোনাচ্ছেন আশার বাণী। এবার রাজধানীর জলাবদ্ধতা সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে উত্তর-দক্ষিণ দুই মেয়রই আশাবাদী। তবে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়নকাজকে একটি বড় বাধা বলে মনে করছেন তাঁরা। এবারের বর্ষায় ঢাকার জলাবদ্ধতা কম হতে পারে বলে মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরাও।

গত ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার কাছ থেকে খাল বুঝে পাওয়ার পর এ বছরের শুরুতেই ঢাকার দুই মেয়র ঘোষণা করেছিলেন সামনের বর্ষায় রাজধানীতে জলাবদ্ধতা হবে না। কথামতো তাঁরা খাল ও বক্স কালভার্টের ভাসমান বর্জ্য পরিষ্কার, পাম্প চালু, খালের গভীরতা বাড়ানোসহ স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেন। কাজ শুরুর চার মাস পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বলছে, এর মধ্যেই তারা স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার কাজ শেষ করেছে। এখন খালের সীমানা নির্ধারণ, বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশন লাইন খাল থেকে বিচ্ছিন্ন করার মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি এ পর্যন্ত ছোট-বড় ১৮টি খাল থেকে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সরিয়ে নিয়েছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা ঢাকার ৩০ বছরের পুরনো সমস্যা। সেটি তিন দিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে আমরা এরই মধ্যে খালগুলো পরিষ্কার করে ফেলেছি। এখন কল্যাণপুর পাম্পটা সচল করার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে বর্ষার জমা পানি ধরে রাখার জন্য আমরা কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ডটিকেও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, এ বছর জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর না হলেও অনেকাংশে কমে আসবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১১টি খাল থেকে মোট সাত লাখ টন বর্জ্য ও পলিমাটি অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেগুনবাগিচা ও পান্থপথ বক্স কালভার্ট পরিষ্কার করার পর সেখানে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে ধোলাইখাল, পরিবাগ এবং খিলগাঁও/শাহজাহানপুর বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কাজের ইজারা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আগামী ২০ জুনের মধ্যে এই কাজ শেষ করার শর্ত দিয়েছে ডিএসসিসি। একই সঙ্গে ৩০টি স্থানান্তরযোগ্য পাম্প কেনার প্রক্রিয়াও চলছে।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘খালগুলো পুরোপুরি দখলে ছিল। সেগুলো আমরা দখলমুক্ত করেছি। বর্তমানে আমরা নালা-নর্দমাগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মাঝে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজস্ব অর্থায়নে ১০৩ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, এ বছর জলাবদ্ধতা অনেকটাই সহনশীল পর্যায়ে নেমে আসবে, যদিও এ এ ক্ষেত্রে দুটি বড় বাধা হলো হাতিরঝিলের সংযোগস্থলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্প। পদ্মা সেতুর রেলের কারণে আমাদের কাজলা, শনির আখড়া, শ্যামপুর খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অচিরেই এটি খুলে দেওয়ার জন্য আমরা যোগাযোগ করেছি।

এদিকে আগের ২৬ খালের সঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আরো ১৭টি খাল ও জলাশয়ের দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গত ১৮ মে ঢাকা মহানগরীর খাল এবং প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সভায় সংযুক্ত হয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

খাল হাতে পাওয়ার পরই দুই সিটি জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কাজ শুরু করে। তবে সেই কাজের অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে, তা সরেজমিন দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক। ওয়াসার পানির ট্যাংকের কাছে বাসাবো/খিলগাঁও খাল পরিষ্কার থাকলেও ওয়াসা রোডের মদিনাবাগ প্রান্তে গিয়ে দেখা যায় খাল পুরোটাই বন্ধ। এখানে বাসাবো/খিলগাঁও, জিরানী, মান্ডা ও কদমতলী এই চারটি খালের মিলনকেন্দ্র। এই পয়েন্ট থেকে কদমতলীর দিকে প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই খালের মধ্যে ডিএসসিসির অবৈধ ভবন উচ্ছেদের বর্জ্য চোখে পড়ে, যদিও মান্ডা খালে পানির প্রবাহ ছিল চলমান। জিরানী খালে চোখে পড়েনি ভাসমান বর্জ্য। তবে এখনো বর্জ্য পরিষ্কার কাজে হাত পড়েনি বাসাবো/খিলগাঁও খালের তিলপাপাড়া এলাকায়।

এদিকে ডিএনসিসির কল্যাণপুর খালের আগারগাঁও অংশে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে খালে ভাসমান বর্জ্য নেই। তবে খাল ধরে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবন পর্যন্ত এগিয়ে যেতেই দেখা যায় বর্জ্যের কারণে খালের পানি চলাচল বন্ধ। প্রায় একই অবস্থা মিরপুরের সাংবাদিক কলোনির খালের।

আগামী বর্ষায় ঢাকার জলাবদ্ধতা কমবে কি না এমন প্রশ্নে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ বলেন, উন্নয়নকাজের কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ কিছু উন্নয়নকাজের জন্য এর আশপাশের ড্রেনগুলো বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তবে এই অজুহাত দেখিয়ে এবার পার পাওয়া যাবে না। মানুষ জানে সিটি করপোরেশনের কাছে সব দায়িত্ব দেওয়া আছে। সুতরাং তাদের ওপর মানুষের বড় ধরনের প্রত্যাশা আছে। রাজধানীবাসী এই বর্ষাতেই সেটির প্রতিফলন দেখতে চায়। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার জলাবদ্ধতা কমই হবে বলেও অভিমত এই নগর পরিকল্পনাবিদের।