kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

সবজি এখন ষাট-সত্তরে

ক্রেতা কম, তবু দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবজি এখন ষাট-সত্তরে

ঈদের পর রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ক্রেতা কম হলেও শাক-সবজি ও মাছ-মাংসের দাম চড়া। বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজিই কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে ডাল, চিনি, তেলসহ মুদিপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, এবার অনেকেই ঈদে বাড়ি চলে যাওয়ায় ক্রেতা কম। পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক দোকানও বন্ধ। ফলে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা এখনো ঠিকমতো চালু হয়নি। চলতি সপ্তাহটা এভাবেই যেতে পারে বলেও তাঁদের ধারণা।

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, বাজারের অনেক দোকান বন্ধ। যেগুলো খোলা রয়েছে সেগুলোতেও ক্রেতার সংখ্যা হাতে গোনা। বিক্রি কম ভ্যানের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও। অনেক বিক্রেতা হাঁকডাক দিয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে রয়েছেন দোকানের পাশে। প্রায় সব ধরনের সবজিই ঈদের আগের তুলনায় অনেক বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঢেঁড়স, বেগুন, বরবটি, করলা, শসা, গাজর, টমেটোসহ প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আলু ২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ৯০ টাকা, লেবুর হালি (মাঝারি) ২৫ থেকে ৩০ টাকা, সব ধরনের শাকের আঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকায় মিলছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সবজির সব আড়ত খোলেনি। তাই যে কয়টিতে বিক্রি হচ্ছে সেগুলোতে দাম রাখছে বেশি। আমাদের বিক্রিও কম। তবে দু-এক দিনের মধ্যে বিক্রি বাড়বে বলে মনে হয়।’

একই অবস্থা মাংসের বাজারেও। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, মাংসের সব দোকান এখনো খোলেনি। ফলে দামও বেশি রাখছেন বিক্রেতারা। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকায়। একইভাবে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে।  ফার্মের মুরগি ১৫০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৪০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ মাছ ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা, চিংড়ি ৬০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, বড় রুই-কাতল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ঈদের আগের বাড়তি দামে স্থির রয়েছে ডাল, চিনিসহ মুদিপণ্যের দাম। বাজারে ক্যাঙ্গারু নামে পরিচিত ছোট দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি। দেশি ছোট দানার ডাল ১১০ টাকা কেজি। বড় দানার মসুর ডাল কেনা যাচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজির দরে। খোলা সয়াবিন তেল ১৩৫ থেকে ১৩৬ টাকা কেজি, বোতলজাত এক লিটার ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। চিনি আগের মতো ৭২ থেকে ৭৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পেঁয়াজ-রসুনের দামও আগের মতোই রয়েছে। যদিও ঈদের আগে ও পরে দু-এক দিন বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। তবে এখন আবার দেশি পেঁয়াজ খুচরায় ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। আমদানির পেঁয়াজ খুব একটা নেই বললেই চলে। সব ধরনের আদা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, রসুন ৭০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।