kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা সংকটে

► লাশ নিয়ে অপেক্ষা ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ
► অনেকের কাছেই বেশিদিন থাকার টাকা নেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা সংকটে

‘ভারতে বেড়াতে আসিনি। জরুরি চিকিৎসা করাতে এসেছি। এখন ফেরা দরকার। পরিস্থিতি ভালো না। চিকিৎসা খরচ ও থাকা বাবদ যে টাকা নিয়ে গিয়েছিলাম, তা-ও প্রায় শেষ। তিন-চার দিনের মধ্যে ফিরতে না পারলে ফেরার টাকাও থাকবে না।’ গত রবিবার রাতে মোবাইল ফোনে এ কথা বলেছেন সেখানে আটকে পড়া এক বাংলাদেশি। নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বিপজ্জনক ভারতীয় ধরন ঠেকাতে ভারত সীমান্ত দুই সপ্তাহ আগেই বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার থেকে সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ আরো ১৪ দিন বাড়ানো হয়েছে। ভারতে বাংলাদেশ মিশনগুলোর ছাড়পত্র নিয়ে শুধু বেনাপোল, আখাউড়া ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ফেরার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশে কোয়ারেন্টিনের জায়গার সংকটের কারণে গত ৯ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। আর এতে ক্ষুব্ধ সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা।

নয়াদিল্লি থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, মায়ের মরদেহ নিয়ে ফেরার জন্যও তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের ছাড়পত্র পাননি। ছাড়পত্র মিলেছে শুধু মরদেহের। শোকের এই সময়ে দেশে মরদেহ নিয়ে এসে সম্মানজনকভাবে কবর দেওয়াটাই এখন তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ সরকার যখন হঠাৎ করে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়, তখন দেশে ফেরার সুযোগের দাবিতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।

ভারতে বাংলাদেশ মিশনের ছাড়পত্র নিয়ে গত সপ্তাহে দেশে ফেরা এক বাংলাদেশি জানান, প্রচুর রোগী ভারতে আটকে আছে। তিনি আরো বলেন, ‘বিপদের সময় প্রত্যেক নাগরিক দেশে ফিরতে চায়। অথচ হঠাৎ করে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হলো। যারা বিদেশে আটকা পড়েছে, তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কি সরকার বা দূতাবাস করেছে? সরকার কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা বাড়িয়ে ফেরার সুযোগ দিক।’

আমাদের বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার বাংলাদেশি কলকাতায় এসে আটকে আছে। তাদের অনেকেরই টাকা শেষ। পরিচিতদের কাছে ধার চেয়েও পাচ্ছে না। কেউ কেউ বিকল্প পথে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। অনেকের আবার সেই সুযোগও নেই। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে বেনাপোলে গত কয়েক দিনে যারা ফিরেছে, তাদের অনেকেই হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে। বেনাপোলের সান সিটি আবাসিক হোটেলের মালিক রাশেদুজ্জামান রাসেল জানান, বেনাপোলের কিছু অসাধু আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী কোয়ারেন্টিনে থাকা পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে হোটেলভাড়া বেশি নিচ্ছেন।

ভেলোরে আটকে আছে কয়েক শ বাংলাদেশি : আমাদের রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি জানান, রাজাপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম পলাশ তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মৃত্তিকার কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে ১৩ এপ্রিল ভারতে যান চিকিৎসার জন্য। ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয় মৃত্তিকার। সেখানে চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফেরার আগেই সরকার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ফলে সেখানে আটকে পড়েন তাঁরা। তিনি আরো জানান, শুধু ভেলোরে চিকিৎসা নিতে আসা বর্তমানে দুই শতাধিক বাংলাদেশি এখানে আটকে আছে। তাদের মধ্যে যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, তারা খুবই অসহায় অবস্থায় আছে।

কলকাতায় অনাপত্তিপত্র বন্ধ হওয়ায় চাপ বেড়েছে আগরতলা দিয়ে : আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, কলকাতার বাংলাদেশের উপহাইকমিশন ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার অনাপত্তিপত্র দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ছুটছে আগরতলায়। এ অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরার চাপ বেড়েছে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে। আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন এখনো এনওসি দিয়ে যাচ্ছে বলে ভিড় আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।