kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ঈদপণ্য

রোকন মাহমুদ   

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ঈদপণ্য

ঈদুল ফিতরের বাকি আর তিন থেকে চার দিন। এরই মধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে ঈদপণ্যের বাজার। আর এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অন্যায্য সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তেল, চিনি, সেমাই, পোলাউয়ের চাল, গরুর মাংস, পেঁয়াজসহ ১২ ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। তারা বলছে, ঈদ এলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি চাহিদার সুযোগে পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিমুনাফা করেন। জোরদার বাজার মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রাজধানীর ওয়ারী, রামপুরা, মালিবাগ ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চালের দাম হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। খোলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। গত বছর এই সময়ে সেমাই পাওয়া গেছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটসংলগ্ন কাঁচাবাজারের মুদিপণ্য বিক্রেতা আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছর করোনার কারণে ঈদের বেচাবিক্রি তেমন ছিল না। এবার করোনার মধ্যেও চিত্র ভিন্ন। বাজারে ঈদের কেনাকাটার সঙ্গে যোগ হয়েছে সহায়তার কেনাকাটার চাপ। দরিদ্রদের সহায়তার তালিকায় তেল, চিনি, সেমাইসহ কয়েকটি পণ্যই থাকছে। গত সপ্তাহের তুলনায় পাইকারিতে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ২০০ টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে চিনিগুঁড়া চাল। চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা।’

খুচরা বাজারে সপ্তাহখানেক আগে ৬৮ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া খোলা চিনির দাম এখন ৭০ থেকে ৭২ টাকা। প্যাকেটজাত চিনি আগেই ৭৫ টাকা ছিল। সয়াবিনের দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের শুরুতেই। খোলা সয়াবিনের কেজি এখন ১৩৫ থেকে ১৩৬ টাকায় উঠেছে। তা আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩২ টাকা। বোতলজাত সয়াবিনের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা।

মাসখানেক আগে বড় দানার মসুর ডাল ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। সপ্তাহখানেক আগে দাম বেড়ে তা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় ওঠে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি। ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দাম ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে।

পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলাজাতীয় অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। আমদানির পেঁয়াজ গত সপ্তাহে পাওয়া যেত ৩৫ টাকা কেজি। এখন তা ৪০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ টাকা। অনেক বাজারে  সেই দামে পেঁয়াজ মিললেও কোনো কোনো বাজারে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ১৬ ধরনের মসলার দামের তথ্য রাখে। প্রতিষ্ঠানটির গতকাল রবিবারের মূল্যতালিকায় দেখা যায়, জিরা, দারচিনি, ধনে গুঁড়া, তেজপাতাসহ ১১ ধরনের মসলাপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে খুচরা বাজারে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি।

 



সাতদিনের সেরা