kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির খসড়া

টিকা না এলে টাকা ফেরতের গ্যারান্টি রাখার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টিকা না এলে টাকা ফেরতের গ্যারান্টি রাখার সুপারিশ

রাশিয়া কোনো কারণে কভিডের টিকা সরবরাহ করতে না পারলে টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা চায় বাংলাদেশ। টিকা সরবরাহে জটিলতা হলে এর দায় রাশিয়াকে নিতে হবে। টিকা কেনার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে এমন ২৯টি সুপারিশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া টিকা নেওয়ার পর কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দায়মুক্তির ধারা পর্যালোচনারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার প্রস্তাবিত ওই চুক্তির খসড়া বেশ কয়েক দিন ধরে বিবেচনা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছিল। রাশিয়ার প্রস্তাবিত চুক্তিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘একতরফা’ মনে করছে—এমন ইঙ্গিত গত সপ্তাহেই দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে পাল্টা খসড়া প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেছিলেন, টিকার ঘাটতি থাকায় এখন সুবিধাজনক অবস্থায় আছে টিকা উৎপাদনকারীরা। চুক্তির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে জটিলতারও আশঙ্কা আছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সম্প্রতি রাশিয়ার টিকা ‘স্পুৎনিক ভি’ দেশে প্রয়োগে অনুমোদন দেয়। তবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে চুক্তি অনুযায়ী টিকা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা সামনে নিয়ে খসড়া চুক্তির কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ প্রথম চালানেই ১০ লাখ ডোজসহ যতটা সম্ভব বেশি টিকা কিনতে আগ্রহী। কিন্তু ওই দেশটির পক্ষ থেকে প্রতি ডোজ টিকার দাম এবং অন্য কয়েকটি শর্তসহ যে খসড়া চুক্তি বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়েছে, তা মানতে নারাজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। টিকার প্রতি ডোজের দাম ধরা হয়েছে ১০ ডলার। এ ছাড়া কোনো কারণে টিকা সরবরাহে বিলম্ব ও উৎপাদন কমে গেলে সরবরাহে দেরি হওয়া এবং অর্ধেক অর্থ অগ্রিম দেওয়া, টিকার মান বা কার্যকারিতা কমে গেলে কোনো দায় সরবরাহকারী অর্থাৎ রাশিয়াকে দেওয়া যাবে না। টিকার দাম ধারণার চেয়ে বেশিসহ যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এসব নানা শর্তের কারণে কবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে তা নিয়ে নিশ্চিত নয় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে এখনো আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।